প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আয়নায় তাকিয়ে কপাল, চোখের কোণ বা মুখের পাশে সূক্ষ্ম রেখা দেখা গেলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এই রেখাগুলোই মূলত রিঙ্কেল (Wrinkle) বা বলিরেখা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি স্বাভাবিকভাবে দেখা দিলেও, জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাসের কারণে কম বয়সেও রিঙ্কেল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে কোলাজেন এবং ইলাস্টিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দুটি উপাদানের উৎপাদন কমে যায়। ফলে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং বলিরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
কেন হয় রিঙ্কেল?
রিঙ্কেল হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
• বয়স বৃদ্ধি: বয়সের সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন কমে যায়।
• অতিরিক্ত রোদে থাকা: সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করে এবং দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ তৈরি করে।
• ধূমপান: ধূমপান ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।
• পানিশূন্যতা: পর্যাপ্ত পানি না পান করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হতে পারে।
• অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ত্বকের কোলাজেনের ক্ষতি করতে পারে।
• মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন ব্যাহত হয়।
• বারবার একই মুখভঙ্গি করা: যেমন ভ্রু কুঁচকানো বা চোখ ছোট করে তাকানোর অভ্যাস সময়ের সঙ্গে স্থায়ী রেখা তৈরি করতে পারে।
রিঙ্কেল কোথায় বেশি দেখা যায়?
• কপালে
• চোখের কোণে (Crow’s Feet)
• ভ্রুর মাঝখানে
• ঠোঁটের চারপাশে
• গলা ও ঘাড়ে

রিঙ্কেল প্রতিরোধে করণীয়
ত্বকের বার্ধক্য পুরোপুরি থামানো সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস রিঙ্কেলের গতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
• প্রতিদিন SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
• পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
• ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খান।
• প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
• ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
• নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
• হালকা ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি কম বয়সেই দ্রুত রিঙ্কেল দেখা দেয়, ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয় বা প্রসাধনী ব্যবহারের পর জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জি দেখা দেয়, তাহলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক রেটিনয়েড, কেমিক্যাল পিল, লেজার বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
শেষ কথা
রিঙ্কেল বা বলিরেখা জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ত্বকের যত্নের মাধ্যমে এর অকাল উপস্থিতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সৌন্দর্যের চেয়ে ত্বকের সুস্থতাকেই অগ্রাধিকার দিন—সুস্থ ত্বকই দীর্ঘদিন তারুণ্যের ছাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।