প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একদিকে ইসলামী ব্যাংকের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারিতে চলমান তদন্ত, অন্যদিকে সম্ভাব্য বিদেশযাত্রা, নতুন করে দায়ের হওয়া আইসিটি আইনের অভিযোগ, সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিতর্ক এবং দায়িত্ব পালনকালে ও পরে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য- সব মিলিয়ে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা।
বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, চিকিৎসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। একই সঙ্গে সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত তাঁর বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ করে কোনো আদেশ জারি হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তিনি কি এখন বিদেশে যেতে পারবেন? বিদেশে গেলে চলমান তদন্তের কী হবে? রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওয়া সাংবিধানিক দায়মুক্তি কি তাঁকে সুরক্ষা দেবে? নতুন আইসিটি অভিযোগের আইনি প্রভাব কী? আর আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের অর্থ কী?
বর্তমানে এসব প্রশ্নই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিদেশযাত্রায় কি কোনো বাধা আছে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে আদালতের ট্রাভেল ব্যান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা পাসপোর্ট জব্দের আদেশ না থাকলে তিনি বিদেশে যেতে পারেন।
বর্তমানে প্রকাশ্যে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে দেখা যায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বা তাঁর পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বিদ্যমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী তিনি চাইলে বিদেশ সফর করতে পারেন।
তবে তদন্তকারী সংস্থা যদি মনে করে তাঁর বিদেশে অবস্থান তদন্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাহলে তারা আদালতের কাছে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে পারে। আদালত অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিদেশে গেলে কি তদন্ত থেমে যাবে?
কোনো ব্যক্তি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলতে পারে। তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, নথি বিশ্লেষণ, আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং অন্যান্য আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে।
তদন্ত শেষে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে আদালতে মামলা হতে পারে। এরপর আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার নির্দেশ দিতে পারেন।
সাহাবুদ্দিনের প্রতিক্রিয়া: ‘কিসের গ্রেপ্তার, কিসের ব্যবস্থা?’
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও সম্ভাব্য বিদেশযাত্রা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ড (ব্যাংকক) সফরের কথা বিবেচনা করছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গ্রেপ্তার বা আইনি পদক্ষেপের আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “কিসের গ্রেপ্তার, কিসের ব্যবস্থা?” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো কার্যকর আইনি আদেশ নেই। তাই বিদেশে যাওয়াকে তিনি আইনগতভাবে স্বাভাবিক অধিকার বলেই মনে করছেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির নিজস্ব অবস্থান বা বক্তব্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আদালতের আদেশ এবং প্রচলিত আইন। বর্তমানে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কোনো আদেশ নেই। তবে তদন্তকারী সংস্থা ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে আদালতের কাছে ট্রাভেল ব্যানের আবেদন করতে পারে এবং আদালত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
তদন্তের কেন্দ্রে ইসলামী ব্যাংক ইস্যু
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ ইসলামী ব্যাংকের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ।
হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিএফআইইউর প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে দুদক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায় কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের আইনি প্রক্রিয়া।বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। ফলে কোনো আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করেননি।
নতুন করে আইসিটি আইনে অভিযোগ
চলমান বিতর্কের মধ্যেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নতুন করে আইসিটি আইনে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়া আর আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তকারী সংস্থা আইন অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক-সংক্রান্ত তদন্ত, সম্ভাব্য বিদেশযাত্রা এবং সাংবিধানিক দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই অভিযোগ সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে আইনি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এ অভিযোগও বর্তমানে বিচারিক ও তদন্তাধীন। কোনো আদালত এখন পর্যন্ত তাঁকে এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও চলমান তদন্তের মধ্যে এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান রোববার সাংবাদিকদের বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্তে যদি অতীতের কোনো ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নতুন তদন্ত নয়; বরং চলমান অনুসন্ধানে কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবিধানিক দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদকে কেন্দ্র করেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি কেবল দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সংঘটিত ব্যক্তিগত, আর্থিক বা দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।
অন্যদিকে কিছু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতে, ৫১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে সর্বাত্মক বা নিঃশর্ত দায়মুক্তি দেয় না। তাঁর ভাষ্য, এই সাংবিধানিক সুরক্ষা মূলত রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অভিযোগ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। যদি আইনসম্মত ভিত্তি ও পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও প্রচলিত আইনে আওতায় আনা যাবে।
তিন সরকারের তিন বাস্তবতায় সাহাবুদ্দিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব কম রাষ্ট্রপতি রয়েছেন, যিনি টানা তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পদত্যাগ করেন।
এই তিন সময়ের বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন, শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল আলোচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি সংবিধান রক্ষার কথা বলেন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করেন।
আর দায়িত্ব ছাড়ার পর দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে শেখ হাসিনার শাসনামল, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নধর্মী মন্তব্য করতে দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, এতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বে থাকা অবস্থার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা এবং দায়িত্ব-পরবর্তী ব্যক্তিগত মতামতকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।
সামনে নজর কয়েকটি বিষয়ে
এখন নজর কয়েকটি বিষয়ে—দুদকের তদন্ত কতদূর এগোয়, আইসিটি আইনের অভিযোগে কী অগ্রগতি হয়, তদন্তকারী সংস্থা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে কি না এবং আদালত ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশ দেন।
এসব বিষয়ের ওপরই নির্ভর করবে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গতিপথ।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং তিন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেওয়া বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অধ্যায় দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার কী বলছে? আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্ন দায়িত্বের ইঙ্গিত
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথকভাবে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে তাঁদের বক্তব্যে দায়িত্বের ক্ষেত্র ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অবিচার করা হবে না; জনদাবিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশে চিকিৎসা বা অন্য কোনো কারণে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার এবং ট্রাভেল ব্যানের মতো বিষয় জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা প্রকাশ্যে মন্তব্য করার বিষয় নয়।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি ভিত্তি সরকার খুঁজে পায়নি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ তুলতেই পারে এবং প্রতিবাদও করতে পারে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হলে উপযুক্ত আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।
দুই মন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইনমন্ত্রী ভবিষ্যতের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলছেন, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো আইনি ভিত্তি নেই—এই অবস্থান তুলে ধরছেন। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে।