প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এমন একটি অবস্থা, যেখানে সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হয়, মল শক্ত হয়ে যায়, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় বা মলত্যাগের পরও সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি থাকে। এটি কোনো রোগ নয়; বরং বিভিন্ন কারণে দেখা দেওয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। তবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে পাইলস, অ্যানাল ফিশার (মলদ্বার ফেটে যাওয়া) বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কেন কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?
• পর্যাপ্ত পানি পান না করা
• আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
• অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
• দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও ব্যায়ামের অভাব
• মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা
• অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া
• গর্ভাবস্থা
• বয়স্কদের ক্ষেত্রে অন্ত্রের গতি কমে যাওয়া
• কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন আয়রন ট্যাবলেট, কিছু ব্যথানাশক, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)
• ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা স্নায়ুর কিছু রোগ

যেসব খাবার উপকারী
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন—
• শাকসবজি (পালং, লাল শাক, পুঁইশাক)
• ফল (পেঁপে, পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি, কমলা, কিউই)
• বরই (Prunes) বা প্রুন জুস
• ওটস, লাল চাল, আটার রুটি
• ডাল ও ছোলা
• তিসি (Flaxseed) বা ইসবগুলের ভুসি (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)

যেসব খাবার কম খাবেন
• ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড
• অতিরিক্ত ভাজাপোড়া
• অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয়
• অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস
• কম আঁশযুক্ত সাদা পাউরুটি ও ময়দার তৈরি খাবার
জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন আনবেন
• প্রতিদিন ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন।
• প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
• সকালে নাশতার পর নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করুন।
• মলত্যাগের বেগ কখনো চেপে রাখবেন না।
• পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ঘরোয়া কিছু উপায়
• সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন।
• রাতে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ বা ডুমুর সকালে খেলে উপকার মিলতে পারে।
• পাকা পেঁপে ও পেয়ারা নিয়মিত খেতে পারেন।
• টক দই বা প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
• এক সপ্তাহের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে
• মলের সঙ্গে রক্ত গেলে
• তীব্র পেটব্যথা বা বমি হলে
• দ্রুত ওজন কমতে থাকলে
• জ্বরের সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে
• মলত্যাগ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে
• ৫০ বছরের বেশি বয়সে হঠাৎ নতুন করে কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হলে

ওষুধ কি প্রয়োজন?
সবার ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োজন হয় না। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই অনেকের সমস্যা ভালো হয়ে যায়। তবে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক মল নরম করার ওষুধ (Stool Softener), বাল্ক-ফর্মিং ল্যাক্সেটিভ বা অন্য উপযুক্ত ওষুধ দিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন জোলাপ ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয়
• প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
• নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খান।
• প্রতিদিন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।
• খাবারের সময়সূচি ঠিক রাখুন।
• মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।
বিশেষ পরামর্শ: শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি অথবা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।