• ঢাকা সোমবার
    ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাতে দুঃস্বপ্ন বেশি দেখছেন? কারণ কী, কী করবেন?

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

রাতে দুঃস্বপ্ন বেশি দেখছেন? কারণ কী, কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

রাতে ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর বা অস্বস্তিকর স্বপ্ন দেখা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। মাঝেমধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক হলেও, যদি এটি বারবার হয় এবং ঘুমের মান নষ্ট করে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

কেন দুঃস্বপ্ন দেখা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুঃস্বপ্নের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন—
    •    অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
    •    বিষণ্নতা বা মানসিক আঘাত (ট্রমা)
    •    অনিয়মিত বা পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
    •    রাতে অতিরিক্ত ভারী বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া
    •    জ্বরের সময়
    •    কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
    •    অতিরিক্ত মদ্যপান বা মাদকাসক্তি
    •    স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্যান্য ঘুমজনিত সমস্যা

দুঃস্বপ্ন কমাতে কী করবেন?
    •    প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
    •    রাতে ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
    •    ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমিয়ে দিন।
    •    রাতে অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
    •    ঘুমানোর আগে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা মেডিটেশনের মতো আরামদায়ক কাজ করতে পারেন।
    •    নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমানোর ঠিক আগে নয়।
    •    রাতে অতিরিক্ত ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ঘুম-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
    •    সপ্তাহে একাধিকবার দুঃস্বপ্ন দেখা
    •    দুঃস্বপ্নের কারণে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া
    •    দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব
    •    একই ধরনের ভয়ংকর স্বপ্ন বারবার ফিরে আসা
    •    দুঃস্বপ্নের কারণে উদ্বেগ, ভয় বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হওয়া

শিশুদের ক্ষেত্রে

শিশুদের মাঝেমধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। এ সময় তাদের আশ্বস্ত করুন, বকাঝকা করবেন না এবং নিরাপদ পরিবেশে ঘুমাতে সাহায্য করুন। যদি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: মাঝে মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা সাধারণ বিষয়। তবে এটি যদি নিয়মিত হতে থাকে বা জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে, তাহলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

আর্কাইভ