প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
দাঁত শুধু খাবার চিবানোর জন্য নয়, সুন্দর হাসি, স্পষ্ট কথা বলা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিয়মিত যত্নের অভাবে দাঁতে ক্ষয়, মাড়ির রোগ, মুখে দুর্গন্ধসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত পরিষ্কার না করলে দাঁতের ওপর প্লাক জমে। সময়মতো এটি পরিষ্কার না করলে দাঁতে ক্যাভিটি, মাড়ির প্রদাহ (জিনজিভাইটিস) এবং পরবর্তীতে মাড়ির গুরুতর রোগ (পেরিওডন্টাইটিস) হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী রোগ হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জটিলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
দাঁতের যত্ন কেন জরুরি?
• দাঁতের ক্ষয় ও ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে।
• মাড়ির রোগ ও দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
• মুখের দুর্গন্ধ দূর রাখতে সাহায্য করে।
• খাবার ভালোভাবে চিবাতে সহায়তা করে, ফলে হজমও ভালো হয়।
• হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
• সুন্দর হাসি ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দাঁতের যত্নে যা করবেন
• প্রতিদিন সকালে ও রাতে অন্তত দুই মিনিট ধরে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন।
• প্রতিদিন অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করুন।
• অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয় কম খান।
• ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার করুন।
• প্রতি ছয় মাস অন্তর বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করান।
• ব্রাশ প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর বা ব্রাশের ব্রিসল নষ্ট হয়ে গেলে পরিবর্তন করুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করার পরও যদি মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, দাঁতে তীব্র ব্যথা হয়, মুখে দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকে, দাঁত নড়ে যায় বা গরম-ঠান্ডায় অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের স্বাস্থ্যই সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দাঁতের সঠিক যত্ন নিলে ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল চিকিৎসা এড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।