• ঢাকা সোমবার
    ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
একদিনেই কমলো প্রায় ৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশাবাদে একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে।

টানা তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ে, আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেই দাম কমে যায়।

সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়। এর মধ্যে গত রোববার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কমে যায়। তবে চীনের একটি সুপারট্যাংকার নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমকে জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, এখন প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্টতা তৈরি হলে বাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।

এমএসটি মারকুই-এর বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে স্বাভাবিক হবে। কারণ অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতির আরও উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তারা পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চাইবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা সফল হয় এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দীর্ঘ সময় নিম্নমুখী থাকলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে নতুন করে কোনো সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।


 

আর্কাইভ