• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
কূটনীতির পথে ওয়াশিংটন-তেহরান

দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর নীরব মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর নীরব মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলা, পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার পর আপাতত নীরব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। শুক্রবার (২৪ জুলাই) হঠাৎ করেই ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে ওয়াশিংটনের আর কোনো নতুন হামলা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাও বন্ধ রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

তবে যুদ্ধ থেমে গেলেও সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে দক্ষিণ দিক দিয়ে কয়েকটি জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং অন্য জাহাজগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার শঙ্কা | কালবেলা

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বা গোলাবারুদের ঘাটতির খবর নাকচ করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ব্যয় এবং সামরিক চাপ উভয় পক্ষকেই নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ভাবতে বাধ্য করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি এই সংঘাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তেল পরিবহন, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও কোনো পক্ষই নির্ণায়ক সাফল্য অর্জন করতে না পারায় যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে তেহরান

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতার, মিশর ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এসব মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়নি, তবুও সাময়িক হামলা বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি আবারও যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠবে—তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর তাই হরমুজ প্রণালি এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ