প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আজ পর্দা উঠছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এই আসরকে ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ বলা হচ্ছে। ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ এবং ৩৯ দিনের লড়াই—সব মিলিয়ে এবার বিশ্বকাপ এক নতুন রূপে হাজির হয়েছে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক হলো দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। ১৯৯৮ সাল থেকে ৩২ দলের বিশ্বকাপ দেখে অভ্যস্ত ফুটবল বিশ্ব এবার দেখবে ৪৮ দলের লড়াই। নতুন এই ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে দলগুলো। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে উঠবে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় থাকবে।
এবারের বিশ্বকাপের আরেকটি বড় আকর্ষণ নতুন মুখগুলোর অংশগ্রহণ। উজবেকিস্তান, জর্ডান, কুরাসাও এবং কেপ ভার্দের মতো দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে। এতে বিশ্বকাপ আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে আবেগঘন বিষয় হতে পারে দুই কিংবদন্তি Lionel Messi ও Cristiano Ronaldo-র সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকা Kylian Mbappé, Lamine Yamal এবং Erling Haaland-দের দিকে থাকবে বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের নজর।
তিন দেশের যৌথ আয়োজনও বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম। ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়েছে। অন্যদিকে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এবারের আসরকে প্রযুক্তির বিশ্বকাপও বলা হচ্ছে। উন্নত VAR, সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং ডেটা-নির্ভর বিশ্লেষণ ম্যাচ পরিচালনাকে আরও নিখুঁত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্প্রসারিত টুর্নামেন্টে দলগুলোর স্কোয়াড গভীরতা ও ফিটনেস বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে France, Spain, Argentina এবং Brazil। তবে বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের মঞ্চ। তাই নতুন কোনো ‘ডার্ক হর্স’ দল ইতিহাস গড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন উত্তর আমেরিকায়। প্রশ্ন একটাই—মেসির বিদায়ী হাসি, নাকি নতুন কোনো তারকার অভিষেক? উত্তর মিলবে আগামী ৩৯ দিনের মহারণে।