প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
সিডনির মানুষের জীবন সংগ্রামী। কেউ বসে নেই। বয়স্কদের দেখছি পায়ে হেঁটে নিজের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিতে। এরা মাইলের পর মাইল হেঁটে যাতায়াত করেন। রিকশা, স্কুটার, মোটরসাইকেল কোনোটাই এখানে নেই। সবার ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। নিজেই চালক। বলা যায়, সিডনি গাড়ির শহর। পথে অযথা ঘোরেন না কেউই। নবজাত শিশুর মা শিশুকে নিয়ে বাজার কিংবা শপিং মলে সওদা করেন। শুধু মা নন, সবাই পায়ে হেঁটে চলেন। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তাদের হাঁটা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।
সাধারণত এখানে কেউ কাজ ছাড়া বাইরে বেরোতে চান না। অধিকাংশ গাড়ির চালক মেয়েরা। বিনোদনের প্রচুর সুবিধা এখানে। বাসাগুলো একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে স্থাপন করা হয়েছে। একটার থেকে অন্যটা বেশ দূরে। কোনো একটি বাসায় দুর্ঘটনা হলে পাশের বাসার কোনো ক্ষতি হবে না। এ ছাড়াও বাসার সামনে-পেছনে প্রশস্ত রাস্তা। আমি আগেও বলেছিলাম, এখানে জনগণের বসবাসের এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নেই। সব বাসা একই রকম ডিজাইনের।
এখানকার মানুষ কালো পোশাক বেশি ব্যবহার করেন। স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কেডস। সবার পায়ে কেডস। পাশাপাশি রঙিন কাপড় যেমন লাল, হলুদ ইত্যাদিও দেখা যায়। তবে হাফ প্যান্ট সব শ্রেণির মানুষের প্রিয়। পোশাক নিয়ে এখানকার মানুষ তেমন ভাবেন না। তবে কিছু এলাকায় গেলে আপনি পোশাক, কথা দেখেই চিনতে পারবেন এরা কোন দেশের। যেমন, লাকেম্বা, ব্যাংকসটাউন মার্কেট, প্যারামাট্টাসহ আরও কিছু এলাকায় বাঙালি, লেবানিজ, কোরিয়ান, পাকিস্তানি, জাপানিজ, ভারতীয়দের সহজে চিনতে পারবেন। এসব এলাকায় তাদের নিজ দেশের সব কিছুই পাবেন—প্রাণ, আকিজ গ্রুপের পণ্য, জ্যোতির শাড়ি, বঙ্গলক্ষ্মী বিস্কুট, বসুন্ধরার পণ্য, জামদানি, বাসমতি চাল ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশি জাপান ও চীনের পণ্য।
এখানে অনেক অফিসে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। সে ক্ষেত্রে সবাই রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে অফিসে যান। অফিস থেকে যত দূরেই হোক, গাড়ি পার্কিং করে যেতে হয়। যেসব এলাকায় “নো পার্কিং” লেখা থাকে, সেখানে কেউ গাড়ি পার্ক করতে পারেন না। করলেই জরিমানা। আপনি বুঝতেও পারবেন না, আপনার জরিমানা হয়ে গেছে। গোটা শহর, রাস্তা—সব এলাকা সিসিটিভির আওতায়।
এখানে সব গাড়ি ইন্স্যুরেন্স করা। গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লেই সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে মেরামতের টাকা দিয়ে দেবে, তবে নিবন্ধিত গাড়ি মেরামত কারখানার এস্টিমেট অনুযায়ী। কোনো দালালের এখানে ঢোকার সুযোগ নেই। যেমন, এ দেশে যদি কেউ স্থায়ী বাসিন্দা (অন্য দেশের) হন, তাহলে তার সুযোগ-সুবিধা বেশি। চিকিৎসা, শিশুদের পরিচর্যা সহ অনেক সুবিধা তারা পেয়ে থাকেন।
এখানকার জীবন বিলাসবহুল, আবার সংগ্রামীও। নিজেকেই নিজের কাজ করতে হয়—করেনও সবাই। এ কারণেই এক পরিপাটি দেশ অস্ট্রেলিয়া।