• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের অতীতের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর পুনরাবৃত্তি, যেখানে ‘শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন’-এর কৌশল ইরাক ও সিরিয়াতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল সতর্ক করেছেন, ইরানকে ইরাকের মতো ভাবা একটি গুরুতর ভুল ছিল। তার মতে, ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তি। ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত ভিত্তি এবং জনশক্তির দিক থেকে এটি অনেক বেশি সহনশীল ও সংগঠিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি করছে, অন্যদিকে বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দ্রুত বিজয়ের আশা ভেস্তে গেছে, এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, এবং সেখানে বিঘ্ন ঘটায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের আগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, এই সংঘাত ভারত-এর জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত, এবং দেশটির জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই পুরো ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে না ফিরলে এর ‘মূল আঘাত বা ক্ষতি সহ্য করা’ লাগবে পুরো বিশ্বকেই।

সূত্র: আরটি ওয়ার্ল্ড

আর্কাইভ