প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৩, ০৬:১১ পিএম
ধ্রুপদী শিল্পী ভোল্ফগাংক্ আমাডেয়ুস মোৎসার্ট
ধ্রুপদী শিল্পী হিসেবে অমর তিনি। তার সুরঝঙ্কারে মানুষ ভুলে যায় জীবনের দুঃখ-কষ্ট, বেদনা। তার সিম্ফনি শুনে বিমোহিত হয় সারা দুনিয়া। সঙ্গীত ভালোবাসেন, কিন্তু তার নাম শোনেননি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সঙ্গীত ইতিহাসে অনন্য উজ্জ্বল তিনি। তার পুরো নাম ভোল্ফগাংক্ আমাডেয়ুস মোৎসার্ট।
বিখ্যাত এই সুরস্রষ্টার জন্ম জার্মানির জালৎস্বুর্গ শহরে, ১৭৫৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। তিরি তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন শৈশব থেকেই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই ক্ল্যাভিয়ার নামক বিশেষ কিবোর্ড ও বেহালায় দক্ষতা অর্জন করে সৃষ্টি করেন প্রথম সুর। সুরের সীমানা পেরিয়ে ওই বয়সেই তা পরিবেশন করে ইউরোপীয় অভিজাতদের সামনে আলোড়ন তোলেন এই সঙ্গীত প্রতিভাবান।

রূপকথার মতো সঙ্গীতজীবনে মোৎসার্ট বিখ্যাত কম্পোজিশন ‘সোনাটা’ লেখেন মাত্র সাত বছর বয়সেই। তখন জালৎস্বুর্গের দরবারি সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিম্ফোনি প্রকাশিত হয় আট বছর বয়সে। একইসঙ্গে কঠোর সাধনার মাধ্যমে অসংখ্য সুর সৃষ্টি করে আরও উচ্চ স্থানে পৌঁছান তিনি।
তার ৬০০ এর অধিক সুর সৃষ্টির কথা জানা যায়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য সিম্ফোনিক, কনসার্টেন্ট, চেম্বার, গীতিনাট্যধর্মী ও দলীয় সঙ্গীত। ধ্রুপদী সুরকারদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তারকারী সুরকার তিনি। পরবর্তী পাশ্চাত্য শৈল্পিক সঙ্গীতে তার প্রভাব অনস্বীকার্য।
১৪ বছর বয়সে ‘মিট্রিডেইট রে ডি পন্টো’ নামক অপেরা লিখে সাড়া জাগিয়ে তোলেন পুরো ইউরোপে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কোনো রকম পড়ালেখা বা যেকোনো শব্দ শেখার আগেই সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় মোৎসার্টের। তার জীবনে লেখা সব সিম্ফোনির মধ্যে অর্ধেকের বেশি লেখা হয়েছে ১৯ বছর বয়সের মধ্যেই।

মোৎসার্ট অষ্টাদশ শতকের একজন জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে এই বিস্ময়কর বালক গোটা সিম্ফনি লিখে বিশ্বের সুর বোদ্ধাদের তাক লাগিয়ে দেন।
সারা বিশ্বে তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এ সময় আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল ছিলেন তিনি। তার গীত সুর যেনো দৈববাণী। পাশ্চাত্য সঙ্গীত জগতের এই শিল্পী তার মোহিত সুরে জয় করে নিয়েছেন অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা।
মোৎসার্টের রেখে যাওয়া একেকটি সিম্ফোনি সুদূর ভিয়েনা থেকে লন্ডন; ভলগা থেকে গঙ্গা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। কালান্তরে অজেয় হয়ে আছে তার একেকটি সৃষ্টি।
সঙ্গীত জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র বেঁচেছিলেন মাত্র ৩৬ বছর। ১৭৯১ সালের ৫ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ২৩০ বছর আগে করে যাওয়া সেই সুরের মূর্ছনায় আজও মেতে থাকে সঙ্গীতপ্রেমীরা।

মোৎসার্ট খুব অল্প বয়সেই সিম্ফনি লিখে বিশ্বের সুর বোদ্ধাদের তাক লাগিয়ে দিলেও অত্যন্ত বেহিসাবী জীবনযাপন করতেন মোৎসার্ট। জীবনের শেষ মুহূর্তে নিজের এবং পরিবারের জন্য তেমন কোনো সঞ্চয় রেখে যেতে পারেননি। তিনি মারা যাওয়ার দিনও তার স্ত্রী কনস্টানজেরের কাছে কোনো টাকা পয়সা ছিল না। তাই খুব করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল তাকে।
মোৎসার্টের শেষ সিম্ফোনির নাম ‘জুপিটার’। যা ১৭৮৮ সালে লেখেন তিনি। ১৯৮৪ সালে মোৎসার্টকে নিয়ে নির্মিত হয় বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘আমাডেয়ুস’। চলচ্চিত্রটি সেরা সিনেমা ক্যাটাগরিতে অস্কার পায়।
সাজেদ/