প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।