প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। তাদের দাবি, মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ দাবির পক্ষে সৌদি যুদ্ধবিমানটিতে হামলার দৃশ্য ও এর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করার পাশাপাশি বিমানটি শত্রুতামূলক অভিযান চালাচ্ছিল।’
একই সঙ্গে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৪৫০টি হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া হুতিদের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার দৃশ্য এবং পরে এর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ দেখানো হয়েছে।
ভিডিওর পরের অংশে দিনের আলোয় পাথুরে মরুভূমির এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা, বাঁকাচোরা ও পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ধাতব ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। এর মধ্যে পোড়া বিভিন্ন কাঠামোর অংশ এবং সৌদি বিমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন থাকা একটি বড় খাড়া উল্লম্ব পাখাও দেখা যায়।
এসময় সামরিক পোশাক ও ইয়েমেনি পোশাকের মিশ্রণে থাকা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে দেখা যায়। তাদের কারও হাতে রাইফেল ছিল। একজনকে ধ্বংসাবশেষের দিকে ইঙ্গিত করতেও দেখা যায়।
ভিডিওতে হুতি যোদ্ধাদের পিকআপ ট্রাকে করে মরুভূমির মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের একটি অগ্রসরমান গাড়ির দিকে গুলি ছুড়তেও দেখা যায়। ভিডিওতে এক যোদ্ধাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখন, ইনশাআল্লাহ, শত্রুকে ... বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করছি।’
এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এ ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং অঞ্চলটিতে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সৌদি আরবের রয়্যাল সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্স মক্কা আল-মুকাররমার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার ছোড়া একটি শত্রুতামূলক ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে।’
আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ এবং সেখানে থাকা মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সৌদি আরবের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। তারা এ অভিযোগকে ‘বানোয়াট ও মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
হুতিদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পবিত্র মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে অপরাধী আল সৌদ শাসকগোষ্ঠীর প্রচার করা বানোয়াট ও মিথ্যা কেউ বিশ্বাস করবে না। বরং তারাই সেখানে অশ্লীলতা ও অবাধ যৌনাচারের মাধ্যমে এবং যৌনকর্মী আমদানি করে এর পবিত্রতা নষ্ট করছে। ইয়েমেন থেকে পবিত্র স্থানগুলোর ওপর কোনো হুমকি নেই।’