• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সুদানে স্বর্ণখনি ধসে নিহত ৮২, ধ্বংসস্তূপে বহু শ্রমিক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

সুদানে স্বর্ণখনি ধসে নিহত ৮২, ধ্বংসস্তূপে বহু শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্বর্ণের সন্ধানে ভূগর্ভে নেমেছিলেন কয়েক ডজন শ্রমিক। কিন্তু মুহূর্তেই ধসে পড়ে একের পর এক সুড়ঙ্গ। পরিণতিতে সুদানের পশ্চিম করদোফান এলাকায় একটি অনিয়ন্ত্রিত স্বর্ণখনিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮২ জন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান চলছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক কর্মকর্তা জানান, আল-জারা খনির ধসে পড়া অংশের নিচে এখনো অনেক শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার কয়েক ডজন ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শ্রমিক ভূগর্ভে কাজ করার সময় খনিটির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক জীবিত শ্রমিক জানান, খনির ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, সে বিষয়ে কোনো সঠিক ধারণা নেই।

উদ্ধারকাজও চলছে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনে ব্যবহৃত সীমিত ও প্রাথমিক সরঞ্জাম দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। তবে পাথর ও মাটি দ্রুত সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

আরেক শ্রমিক আল আমিন সুলাইমান বলেন, খনিটির সুড়ঙ্গগুলো পরস্পরের খুব কাছাকাছি। ফলে একটি অংশ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সুদানে স্বর্ণের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী ও ক্ষুদ্র পরিসরের খনন পদ্ধতিতে উত্তোলন করা হয়। পরিত্যক্ত ও অনানুষ্ঠানিক খনিতে শ্রমিকেরা সাধারণত হাতে ও অল্প কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন। স্বর্ণ প্রক্রিয়াজাত করার সময় সায়ানাইড ও পারদের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শেও আসতে হয় তাদের। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে খনি দুর্ঘটনাও নিয়মিত ঘটে।

এর মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাত দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের অর্থায়নে দেশটির বিপুল স্বর্ণের বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকটে অনেক তরুণও ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদক দেশ। শিল্পসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির কারিগরি ও ক্ষুদ্র পরিসরের খনিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, উৎপাদিত স্বর্ণের বড় একটি অংশ সীমান্তপথে পাচার হয়ে যায়। আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ