• ঢাকা শুক্রবার
    ২১ জুন, ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

বাবা আদম মসজিদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৩, ১১:০৩ পিএম

বাবা আদম মসজিদ

প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ‘বাবা আদম মসজিদ’

সাজেদ আল হাসান

মুন্সীগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ‘বাবা আদম মসজিদ’। ১৪৮৩ সালে এটি নির্মিত হয় । মসজিদের চত্বরে বাবা আদম শহীদ (রহ.)-এর মাজার অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই স্থাপনার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। 
জানা যায়, ইসলাম প্রচারে ভারতবর্ষে এসেছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক বাবা আদম। উপমহাদেশে সেন শাসনামলে ১১৭৮ সালে ধলেশ্বরীর তীরে মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে আসেন তিনি। তখন বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ ছিল বল্লাল সেনের রাজত্বে। ওই বছরই বল্লাল সেনের হাতে প্রাণ দিতে হয় তাকে।

কালের সাক্ষী পাঁচশ বছরের বাবা আদম মসজিদ

শহীদ বাবা আদমকে মিরকাদিমের দরগাবাড়িতে দাফনের পর তার মাজারের পাশে ১৪৮৩ সালে নির্মাণ করা হয় ‘বাবা আদম মসজিদ’। এটি ছিল তার মৃত্যুর ৩১৯ বছর পরের ঘটনা। সেই থেকে ৫৩০ বছর ধরে ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে এই মসজিদটি। তৎকালীন ভারতবর্ষে যেকটি প্রাচীন মসজিদ ছিল, সেগুলোর মধ্যে একটি বাবা আদম মসজিদ। বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহর শাসনামলে তার আগ্রহে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ট্র্যাভেল নিউজ বাংলাদেশ | এয়ারলাইনস এর টিকেট বুকিং, ইস্যু, রিইস্যু,  রিফান্ড করুণ

১৯০৯ সালে একবার এ মসজিদটি সংস্কার করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় ভারতবর্ষ প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগ। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় সেভাবেই ফেলে রাখা হয়। ১৯৯১ সালের দিকে এর চারপাশে লোহার সীমানা দিয়ে বেড়া নির্মাণ করা হয়। সে বছরই বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগ মসজিদের ছবি দিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশ করে। মসজিদটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এটাই ছিল সরকারের উল্লেখ করার মতো পদক্ষেপ।

শহিদ বাবা আদম মসজিদ
ছয় গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণশৈলী মনোমুগ্ধকর। এটি দৈর্ঘ্যে ৪৩ ফুট ও প্রস্থে ৩৬ ফুট। দেয়াল প্রায় চার ফুট চওড়া। ইট-সুরকি দিয়ে ভেতরে গাঁথা। নির্মাণ নকশা বা স্থাপত্যকলা অনুযায়ী মসজিদ ভবন উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। সম্মুখের দিকে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। দুই পাশে সম আকারের দুটি জানালা। মসজিদের সামনে ওপরের দিকে রয়েছে ফারসি ভাষায় খোদাই করা কালো পাথরের ফলক।


মসজিদের ভেতর ঢুকে সামনে গেলে চার কোণায় ত্রিভুজাকৃতির চারটি স্তম্ভ চোখে পড়ে। মসজিদের খিলান, দরজা, স্তম্ভের পাদদেশ, মেঝে ও ছাদের কার্নিশের নিচে ইট কেটে মুসলিম স্থাপত্যকলার অপূর্ব নকশাও লক্ষ করা যায়।

 

সাজেদ/

আর্কাইভ