• ঢাকা শনিবার
    ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
নতুন ইতিহাস সৃষ্টি

ভারতের মহাকাশ অভিযানে বিক্রম-১ রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

ভারতের মহাকাশ অভিযানে বিক্রম-১ রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘বিক্রম-১’ রকেট সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত রকেট, যা অরবিটাল মিশনে সফল হয়েছে হায়দরাবাদভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোস্পেস। 

শনিবার শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে পরিকল্পিতভাবে কিছু সময়ের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে পেলোড সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপনের মাধ্যমে মিশনের সফলতা ঘোষণা করা হয়। এ সময় ধারাভাষ্যকাররা বলেন, ‘হ্যালো মহাকাশ, আমরা এসে গেছি।’

‘আগমন’ নামে পরিচিত এই মিশনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে। একই সঙ্গে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাতারে নাম লেখাল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে অরবিটাল রকেট তৈরি ও সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে।

সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বহু-ধাপবিশিষ্ট ‘বিক্রম-১’ রকেটটি সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামোয় নির্মিত। এতে স্কাইরুটের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ (থ্রিডি প্রিন্টেড) ইঞ্জিন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কঠিন জ্বালানিচালিত বুস্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের ক্ষুদ্র উপগ্রহ বহনে সক্ষম। প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি ৬০ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়।

‘বিক্রম-১’-এ গ্রাহা স্পেস, কসমোসার্ভ, ডিকিউবড এবং স্কাইরুটের নিজস্ব ‘স্কোপ’-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী পেলোড বহন করা হয়েছে। এ ছাড়া কসমস ডায়মন্ডসের শিল্পকর্ম ‘কসমিক ব্লুম’ এবং ক্ষুদ্র ভাস্কর্যে স্যার সিভি রমন, ড. বিক্রম সারাভাই ও ড. এপিজে আবদুল কালামের প্রতিকৃতিও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাইয়ের নামে নামকরণ করা ‘বিক্রম-১’ হলো স্কাইরুটের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ‘বিক্রম-এস’ সাব-অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছিল।

উৎক্ষেপণের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ উদ্যোগকে দেশের মহাকাশ যাত্রায় ‘একটি ঐতিহাসিক নতুন দিগন্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, চার ধাপের এই রকেট দ্রুত ও প্রয়োজনভিত্তিক উৎক্ষেপণ সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি ভারতের তরুণদের মেধা, দৃঢ়তা ও উদ্যোক্তা মনোভাবের প্রতিফলন এবং মহাকাশ খাতে সরকারের সংস্কার নতুন উদ্ভাবন ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিক্রম-১ আরও উচ্চে উড়ুক, ইতিহাস সৃষ্টি করুক এবং নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবকদের অনুপ্রাণিত করুক।‘ তিনি দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণদের #IndiaWithVikram1 হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে মিশনের সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানানোর আহ্বানও জানান।

রকেটটিতে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ বার্তাও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। স্মারক কার্ডে লেখা সেই বার্তায় তিনি শুধু লিখেছেন, ‘বন্দে মাতরম।’ এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশা সংবলিত শত শত কার্ডও রকেটটির সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ‘আগমন’ মিশনের অংশ হিসেবে ‘বিক্রম-১’-এ রকেট নির্মাণে যুক্ত প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দলের সদস্যদের স্বাক্ষরও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভারতের এই ঐতিহাসিক বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে অবদান রাখা সবার প্রতি সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ