প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়।
শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-চীন ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্ড হেলথকেয়ার বি-টু-বি ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে আমাদের চীনা ভাই-বোনদের নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো ধরনের প্রচেষ্টার ঘাটতি রাখব না।’
সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেকনোলজি ও ওষুধশিল্প খাতে পাকিস্তানি ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিক চুক্তি সই হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, এসব চুক্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস আসে এমন সময়ে, যখন দুই দিন আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, বেলুচিস্তানের চীন পরিচালিত সাইন্দাক তামা ও স্বর্ণখনির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। কারণ, সন্ত্রাসীদের হামলায় ওই অঞ্চলের সরবরাহপথ ব্যাহত হয়েছে।
বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসবিরোধী ও বিদ্রোহ দমন অভিযান পরিচালনা করছে।
চীনা নাগরিকদের ওপর হামলার ইতিহাস
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে চীনা নাগরিক ও চীনা প্রকল্প একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের (ন্যাকটা) ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২০ জন চীনা নাগরিক নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন।
উল্লেখযোগ্য হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মার্চ ২০২৪: খাইবার পাখতুনখোয়ার বিশাম এলাকায় আত্মঘাতী হামলায় দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত পাঁচ চীনা নাগরিক নিহত হন।
এপ্রিল ২০২২: করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় তিন চীনা নাগরিকসহ চারজন নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
জুলাই ২০২১: খাইবার পাখতুনখোয়ার আপার কোহিস্তানে দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে বাসে হামলায় নয়জন চীনা প্রকৌশলী ও দুই ফ্রন্টিয়ার কর্পস সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন।
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ২.০-এর পথে অগ্রগতি:
শাহবাজ শরিফ বলেন, সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ২.০ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এগুলো বাস্তবায়িত হবে। এটি সিপিইসি ২.০-এর অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের অন্যতম।
তার ভাষায়, ‘সবচেয়ে কঠিন সময়েও চীন পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিপিইসি-১-এর আওতায় চীন পাকিস্তানে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা দেশটিতে এককভাবে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ পোর্টফোলিও।’
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উন্নয়নে চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া এই অগ্রগতি সম্ভব হতো না।
পাক-প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শুক্রবারের এই সম্মেলন পাকিস্তানের ওষুধশিল্পে নতুন গতি আনবে এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, ভ্যাকসিন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সূত্র: ডন