• ঢাকা সোমবার
    ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লিতে বিক্ষোভে ১২ সাংবাদিক আটক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

দিল্লিতে বিক্ষোভে ১২ সাংবাদিক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’-এর একজন প্রতিবেদকও রয়েছেন।

রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

হিন্দুস্তানের ২৭ বছর বয়সি আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তিনি আহত হন। তার গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আশিস বলেন, ‘আমি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো ধারণ করছিলাম। এ সময় পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। তারা কোনো একটি ধারালো বস্তু দিয়ে আমাকে আঘাতও করে, সম্ভবত আঙুলে পরা বিশেষ ধরনের ধাতব বস্তু দিয়ে। আমি বারবার বলেছি, আমি হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদক। পরিচয়পত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।’

পরে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে তাকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। আশিসের দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধাও সৃষ্টি করছিলেন না। তারপরও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিক বাস থেকে নেমে যান। আশিস বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছিলাম, পুলিশ আমাদের ফোন কেড়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলবে।’

ছবি তুলতে গিয়ে আটক আলোকচিত্রীও

একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্রী জানান, বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় পুলিশ তাকেও আটক করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দিচ্ছিল, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ পুলিশ চিৎকার করে বলে, “ওকে ভেতরে নাও।” এরপর আমাকেও ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলা হয়। আমার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখি।’

আটক অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন প্রতিবেদক, ‘দ্য হিন্দু’র একজন প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন।

তবে সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

৪৫ মিনিট পর মুক্তি তিন সাংবাদিকের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, তাদের তিন সাংবাদিকের নাম শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়। কনট প্লেস এলাকা থেকে তাদের আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যে স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল, স্টেডিয়ামটি সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদক কনট প্লেসে বলেন, ‘আমি নিজের ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন, আমি কী করছি। এরপর তারা আমাকে আটক করেন। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কীভাবে আটক করা যায়?’

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আর্কাইভ