• ঢাকা শুক্রবার
    ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন ৭ শর্ত দিল ইরান, কী সেগুলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন ৭ শর্ত দিল ইরান, কী সেগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ সর্বশেষ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে এ নিয়ে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘কূটনীতির বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত জানিয়েছি। তারা আমাদের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালি খুলব না কিংবা কোনো আলোচনায় বসব না।’

ইরানের সাত শর্ত কী?

ইরানের পক্ষ থেকে শর্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—

১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

২. ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

৩. ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

৪. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা।

৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো।

৬. যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৭. ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ট্রাম্পের হামলার হুমকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা যখন কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন, তখনই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প। অন্যদিকে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও ব্যাপক পাল্টা হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।

এরপর লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ইয়েমেনেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

আর্কাইভ