• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আগামী ২৫ বছরের মধ্যে শহরে জনসংখ্যা বাড়বে ২০ শতাংশ

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম

আগামী ২৫ বছরের মধ্যে শহরে জনসংখ্যা বাড়বে ২০ শতাংশ

ঢাবি প্রতিনিধি

দেশে বর্তমানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শহরবাসী হলেও আগামী ২৫ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল।

মঙ্গলবার (২৮ মে) নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যা ন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ এবং আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘৮ম আরবান ডায়ালগ-২০২৪’-এর প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাবি উপাচার্য মাকসুদ কামাল বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২ বিলিয়ন মানুষ নতুন করে শহরবাসী হবে। এই স্থানন্তর প্রক্রিয়ার ৯৫ শতাংশ হবে গ্লোবাল সাউথ অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যার মধ্যে ঢাকা অন্যতম। এখন থেকে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না নিলে ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না।

আরবান অর্থাৎ শহর এলাকার সংজ্ঞা বিচারে জনসংখ্যার ঘনত্বে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকাকে শহরাঞ্চল বলা যেতে পারে। কিন্তু আরবান এলাকার সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করলে দেশের শহরাঞ্চলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কম বলে জানান ঢাবি উপাচার্য।

তিনি বলেন, জাপানের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাদের গ্রাম ও শহরের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এজন্য জাপানের বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে না। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষ কিছু হলেই শহরমুখী হয়। এতে করে শহরের ওপরে চাপ বাড়ছে, গড়ে উঠছে বস্তির মতো অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা।

প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হারে শহরে লোক বাড়ছে উল্লেখ করে মাকসুদ বলেন, এখন থেকে শুধু ঢাকা না দেশের বড়, ছোট, মফস্বল প্রতিটি শহরকে পরিকল্পিতভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। একবার নগরায়ন হয়ে গেলে সেই শহরকে আবার পরিকল্পনার মধ্যে আনা অনেক কঠিন। এজন্য যা যা পরিকল্পনা এখন থেকেই করতে হবে।

রাজধানীর পরিবেশ প্রসঙ্গে ঢাবি উপাচার্য বলেন, করোনার লকডাউনের কয়েক মাস পরে ঢাকার বাতাস পরীক্ষা করে দেখা যায় এতদিন সবকিছু বন্ধ থাকার পরেও বাতাস থেকে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ খুব একটা কমেনি। এর মানে হচ্ছে ঢাকার বাতাস এতটাই দূষিত যেটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাইলে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন না করে প্রায় বছরখানেক অপেক্ষা করতে হবে; যা এক রকমের অসম্ভব।

শহরে অনেক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে মাকসুদ কামাল বলেন, বর্তমান সরকারের হাতে ১২১টি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের বেশির ভাগই গ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু শহরের বস্তির যে অবস্থা তাতে করে এখানেও সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প বাড়ানো উচিত।

২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি গ্রাজুয়েশন ও ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে এখন থেকে কাজ করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যানের মতো যেসব পরিকল্পনা আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে দেশের জিডিপি বাড়বে দেড় শতাংশ। এর বাইরে বাংলাদেশ যদি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ ধরে রাখতে চায় ও আগামীতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় তাহলে এখন থেকে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে বলে জানান মাকসুদ কামাল।

চীন ও জাপানের উদহারণ টেনে তিনি আরও বলেন, চীনের শিল্পায়ন হয়েছে আশির দশকে আর জাপানের নব্বই দশকে। চীন নিজের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে ব্লু ইকোনমির মাধ্যমে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্লু ইকোনমিতে অপার সম্ভাবনা আছে। সমুদ্রের সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার অচিরেই ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

মাকসুদ বলেন, সৌদির মতো ধনী রাষ্ট্রের গ্রামীণ অবকাঠামোর চেয়ে বাংলাদেশের গ্রামের রাস্তাঘাট অনেক ভালো। গত নির্বাচনের আওয়ামী লীগের ইশতেহার ছিল গ্রাম হবে শহরের মতো অর্থাৎ শহরের সুযোগ সুবিধা গ্রামেই মিলবে। জাপান এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে আজ উন্নত দেশ। চাইলে বাংলাদেশও সেই পদচিহ্ন অনুসরণ করতে পারে।

তবে এতসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, উপকূলে যাদের ঘরবাড়ি ডুবে যাচ্ছে বা নদী ভাঙনের কারণে সব হারাচ্ছেন তারা বাধ্য হয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন। গ্রাম থেকে স্থানান্তরিত এসব মানুষের জায়গা হচ্ছে বস্তিতে, ব্যবসা করছেন ফুটপাতে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা না করে এদের জীবনমান উন্নয়নে নেয়া যাচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। এটিই এখন নির্মম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশ বিশ্বের তলানীতে থাকলেও বাঘা বাঘা ছয়টি দেশের শিল্পায়নের প্রতিযোগিতার দৌড়ে ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত কিংবা রাশিয়ার মতো দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে সেখানে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ মাত্র শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ। এত কম কার্বন নিঃসরণ করেও বাংলাদেশের এ ভোগান্তির জন্য দায়ী দেশগুলোকে জরিমানা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিক।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে বড় বড় ছবক দেন তাদের কার্বনেই আজ বিপর্যস্ত বিশ্ব। জলবায়ু অর্থায়নের নামে এসব বাঘা বাঘা দেশের কর্তারা শুধু কথার ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে বেড়াচ্ছেন। এরা এক একজন কার্বন কালপ্রিট। এরাই আবার যুদ্ধ জড়িয়ে বিশ্বকে অস্থির করে তুলছেন। যুদ্ধের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে জলবায়ুর পেছনে তার ১০ শতাংশ ব্যয় হলেও অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে জানান মেয়র।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ