• ঢাকা রবিবার
    ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ শতাংশ

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রাপথে সড়ক দুর্ঘটনা আবারও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাবে, এবার ঈদযাত্রায় সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৯৪ জন। গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৩ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের ঈদযাত্রা পর্বে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এ সময় সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও ঘরে ফেরার আনন্দ অনেক পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে শোক ও বেদনার ঘটনায়।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক, নৌ ও রেলপথের মধ্যে সড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। সংগঠনটির দাবি, বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে যানবাহন চলাচল এবং চালকদের ক্লান্তি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে মানুষের ব্যাপক যাতায়াতকে সামনে রেখে কেবল স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিলে হবে না। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি এবং পরিবহন খাতে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি, এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু পরিবহন মালিক মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন প্রয়োজনীয় মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদ, খাল কিংবা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবারের ঈদে এমন দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে দাবি সংগঠনটির।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদের সময় প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন বিরামহীনভাবে চলাচল করেছে। এতে চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকিও বেড়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনার ১৫টি কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে ১১ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে সড়কে কঠোর তদারকি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, ঈদকেন্দ্রিক সাময়িক তৎপরতার পরিবর্তে সারা বছর ধরে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সড়কে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে না। তাই নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ