প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা জাতীয় সংসদ হতে চলেছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি এবং কমিটির সদস্যদের সাক্ষাতে এই উদ্যোগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে সংসদের সব ধরনের কার্যক্রম, নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষার সংস্করণ থাকবে, যা সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করবে। অর্থাৎ, কোনো এমপি বা কর্মকর্তাকে এখন আর কোনো নথির জন্য ফাইল-ফোল্ডার খুঁজতে হবে না; বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই সবকিছু পাওয়া যাবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে চেয়ারম্যান করে এই কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করবে।
এদিকে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ই-পার্লামেন্ট সিস্টেমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার। এই প্রেজেন্টেশনে সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একবার ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এর ফলে কাগজের ব্যবহার যেমন কমবে, তেমনি সময় ও প্রশাসনিক ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি, সংসদীয় কার্যক্রমের গতি, দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়বে— যা দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় কার্যক্রমে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তবে এই ডিজিটাল রূপান্তরের পথটা সহজ নয়। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ইউএনডিপি, দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর আগে ডেপুটি স্পিকার ইউএনডিপির কাছে ই-পার্লামেন্ট উদ্যোগের জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন।
মূলত, গত ৩ সেপ্টেম্বর লাইব্রেরি কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা আজকের সাক্ষাতের মাধ্যমে কার্যকর হলো।