প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা, ক্ষমতার জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান—‘দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে’—গণমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্বের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশাগত আদর্শ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি। রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আজ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থান গণমাধ্যম খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে শুধু আহ্বান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পের সংকট, সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং পেশাগত সুরক্ষার বিষয়গুলো যে গুরুত্ব পেয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন সাংবাদিক তখনই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, যখন তার পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত থাকে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি সাংবাদিকতার মান ও স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগও সময়োপযোগী। তবে এই কমিশনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। কমিশনের কাঠামো ও কার্যপরিধি এমন হতে হবে, যাতে এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করে, একই সঙ্গে পেশাগত মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। আগামী ১৮ জুনের সংলাপ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
একটি সুস্থ গণতন্ত্রে সরকার ও গণমাধ্যম পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং জনস্বার্থে একে অপরের পরিপূরক। সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, আর গণমাধ্যম সেই কর্মকাণ্ডের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে। সমালোচনা ও প্রশ্নকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে উঠলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অর্থবহ হবে।
সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত নৈতিকতার ভিত্তিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা, মালিকপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সততা। এ তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা, যা গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করবে।