প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এবং নিখোঁজের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের হিসাবে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল ও চীনের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি বড় মানবিক বিপর্যয়।
দুর্যোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা নিয়েও এখনো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেপাল ও তিব্বতের সরকারি সংস্থা, পুলিশ, পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। দুর্যোগের পর এমন বিভ্রান্তি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উদ্ধারকাজের স্বার্থে নিখোঁজদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নেপাল ও চীনের স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। প্রত্যেক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয়, সর্বশেষ অবস্থান এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য দ্রুত যাচাই করা গেলে উদ্ধার অভিযান আরও কার্যকর হতে পারে।
পর্বতারোহণ, পর্যটন ও তীর্থযাত্রার জন্য প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ নেপাল ও তিব্বতে ভ্রমণ করেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে এসব এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা দরকার। পর্যটকদের চলাচল, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রিয়জন জীবিত না মৃত—এই অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি স্বজনদের নিয়মিত তথ্য দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উদ্ধার অভিযান জোরদার করা এবং জীবিতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা। সংখ্যার হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে।
নেপাল ও তিব্বতের এই দুর্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগের সীমান্ত নেই। তাই শুধু একটি দেশ নয়, সংশ্লিষ্ট সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিখোঁজ প্রতিটি মানুষের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন মানবিকতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।