প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষামূলক নতুন ধাপে প্রবেশ করছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখা।
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার (৫ মে) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, অপারেশনটি তার লক্ষ্য পূরণ করেছে। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে যাচ্ছি, যা মূলত প্রতিরক্ষামূলক।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নতুন প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান অন্তত ৯ বার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, দুটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং ১০ বারের বেশি মার্কিন বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তবে এসব ঘটনা এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১,৫৫০টির বেশি জাহাজ আটকা পড়েছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে এবং জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান কী করলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, তা যথাসময়ে জানানো হবে। তিনি ইরানের ছোট নৌযানের তৎপরতাকে তুচ্ছ করে দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যে প্রস্তুত রয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন শক্তির ভারসাম্য গড়ে উঠছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটি হামলার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ওয়াশিংটন এই উদ্যোগকে `বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা` হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস