প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ফের তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
তখন আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে চলে যায়। পুলিশ অবস্থান নেয় শাহবাগ থানার সামনে।
এর আগে বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে সরকারি ভাষ্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে বিক্ষোভ করছিলেন।
তারা বিকেল ৪টার দিকে সেখান থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। এ সময় ব্যারিকেড ভেঙে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এতে মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী রক্তাক্ত আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত হয়ে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, তারা হলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম ঝুমা, রাকসুর নেতা সালাউদ্দিন আম্মার, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, উমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামিম, সোহেল, শাওন, জাবেদ ও শামিম।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করা হয়, ‘জাবের গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।’
হাসপাতালে আহত ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক সদস্য বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ওপরে বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড নিক্ষেপ করেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরসহ আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি জাবেরের পায়ে গুলি লাগে।’
তবে পরে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিবৃতি দেয় অন্তবর্তী সরকার। এতে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করা হয়নি, গুলিবিদ্ধও হয়নি কেউ।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।