প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
নির্বাচনের আর বাকি ২ দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে ভোট গ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ করা হবে। এ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়
সোমবার ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বিষয়টি জানা যায়। সেখানে বলা হয়, ভোট গ্রহণের দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া। এটি জারি থাকবে বেসরকারি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী অনুযায়ী প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিবেদন ও প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মুঠোফোন নম্বর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার তথ্য ও নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আলাদাভাবে জানানো হবে। ভোটগ্রহণ শুরু করার আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্ধারণ করে দিতে হবে—কারা ফলাফল পাঠাবেন এবং কারা ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন।
এছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে কি না অথবা অথবা ইন্টারনাল সাইট/ইন্ট্রানেট বা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট ও ই-মেইল ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা আগেভাগেই যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বার্তা শিট প্রস্তুত করে পাঠানো
ভোট গ্রহণ শেষে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে নির্ধারিত ‘বার্তা প্রেরণ শিট’–এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে, সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইন্টারনাল সাইটে পাঠাতে সমস্যা হলে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। বার্তা শিটে রিটার্নিং কর্মকর্তা অনিবার্য্য কারণে স্বাক্ষর করতে না পারলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরেও আংশিক ফলাফল পাঠানো যাবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের ক্ষেত্রে অবশ্যই রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে। আরএমএসে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।
কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর আজ ১০ ফেব্রুয়ারিনির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
ফলাফল ব্যবস্থাপনা
সেই পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ব্যবস্থাপনার জন্য ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে থাকা ইএমএস সফটওয়্যারের নির্ধারিত মডিউল ব্যবহার করতে হবে। ফলাফল এন্ট্রি ও পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের পাশাপাশি ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা, উপজেলা, থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহকৃত গ্রামীণ ও টেলিটকের সিমসংবলিত মডেম ব্যবহার করবেন। এর বাইরে ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণাকেন্দ্রে লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ইন্টারনেট–ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করতে দুজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন, যাদের কাজের জন্য ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং কমকর্তাদের কার্যালয়েও প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করার সময় একই ভোটকেন্দ্রের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সঙ্গে এন্ট্রি নিশ্চিত করবেন।