• ঢাকা রবিবার
    ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচন আবাধ ও উৎসবমুখর: আইআরআই পর্যবেক্ষক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

নির্বাচন আবাধ ও উৎসবমুখর: আইআরআই পর্যবেক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসে এমন মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) পর্যবেক্ষক ডেভিড ড্রেয়ার। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক এই মার্কিন কংগ্রেসম্যান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর সময় সংবাদের সঙ্গে আলাপকালে ড্রেয়ার জানান, একটি সুশৃঙ্খল ভোটের পরিবেশ এবং জনগণের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি আমার বাংলাদেশে প্রথম সফর। আমি দেখতে পাচ্ছি জনগণের মধ্যে উন্মাদনা, আনন্দ এবং উৎসবের আমেজ।’

ড্রেয়ার জানান, তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সুসংগঠিত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে দেখেছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এই অবস্থা দিনের বাকি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা পালন করছে—এটা দেখে খুবই উত্তেজনাকর।’

নিজের পরিচয় নিয়ে ড্রেয়ার বলেন, তিনি ক্যালিফর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আইআরআই-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আইআরআই ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা, যার লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং স্ব-নির্ধারণের অধিকার প্রচার করা।

তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি স্ব-নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশের জনগণ তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে করে দেখাচ্ছে।’ ড্রেয়ার উল্লেখ করেন, তিনি অনেক প্রথমবারের ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, আগে তারা ভোট দিতেন না কারণ মনে করতেন তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু এবার তারা অনুভব করছেন যে তাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা পার্থক্য তৈরি করতে পারবেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মুক্ত ও নিরপেক্ষ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার সামগ্রিক ধারণা ইতিবাচক। 

তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় আমি গিয়েছি, সেখানে সবকিছু খুব সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন যে এটি তার বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন পর্যবেক্ষণ। ভোট কেনাবেচা বা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড্রিয়ার বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেননি। ‘আমি ভোট কেনাবেচার কোনো প্রমাণ দেখিনি এবং কেউ আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগও করেনি’, বলেন তিনি।

ড্রেয়ার জানান, কিছু ভোটকেন্দ্রে তিনি দীর্ঘ লাইন দেখেছেন—বিশেষ করে দিনের পরের দিকে—কিন্তু এটাকে তিনি অব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটারদের উৎসাহের প্রতীক বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘সকালে কেন্দ্রগুলোতে নারীদের সংখ্যা কম ছিল, কারণ অনেকেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু বিকেলে আমি দেখেছি নারীদের দীর্ঘ লাইন—তারা উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন।’ 

ড্রেয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সহায়তা করা হচ্ছে। আমি একজন হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে দেখেছি, যাকে সাহায্য করা হয়েছে যাতে তিনি ভোট দিতে পারেন। এটা খুব উৎসাহজনক’, বলেন তিনি। 

তিনি আরও লক্ষ্য করেছেন যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছিলেন। ‘সবাই মিলে চেষ্টা করছে যাতে নির্বাচন মুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকে’, বলেন ড্রেয়ার।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ