প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
পেশাজীবনের শুরুটা ছিল আদালতের কাঠগড়ায়, যুক্তিতর্কে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে করতেই নির্যাতিত মানুষের আস্থা হয়ে ওঠেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। সেই পথ ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং অবশেষে রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের দায়িত্ব আইনমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠান।
একজন আইনজীবীর আইনমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মূল্যায়নের প্রতীক।
আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। সংবিধান, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় আইনের জটিল ব্যাখ্যায় দক্ষতার জন্য সহকর্মীদের মধ্যেও আলাদা মর্যাদা তৈরি হয়।
বিএনপির রাজনীতিতে আসাদুজ্জামানের সম্পৃক্ততার শুরুটা ছিল গণমানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আইনজীবী হিসেবে প্রান্তিক মানুষের হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলে।
জনগণের প্রত্যাশা ও আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাকে বুঝতে সাহায্য করে আইন সংস্কার ছাড়া ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
সেসময় বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা জট কমানো, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তার প্রস্তাবগুলো ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বর্তমান সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আইন পেশা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ তারা আইনের প্রয়োগগত সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষভাবে জানেন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ফলে নীতিনির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়।
একজন আইনজীবীর আইনমন্ত্রী হয়ে ওঠা তাই কেবল ব্যক্তিগত পদোন্নতি নয়, এটি বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলনের একটি প্রক্রিয়া। আমি আশাবাদী এ প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফল হবেন আসাদুজ্জামান।’
সদ্য আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে আমার প্রধান কাজ। আমার আজীবনের স্বপ্ন এ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি শপথ গ্রহণ করেছি। এটাই আমার সব সময় ধ্যান-জ্ঞান হয়ে থাকবে।’
এদিকে, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকা শৈলকুপাজুড়ে উৎসবের আমেজ চলছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করছে তার অনুসারীরা।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পান অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট।