• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
১৭৬ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা, প্রবাসীদের পাশে ইউএস-বাংলা

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফ্লাইট বাতিলের ধাক্কা, প্রবাসীদের পাশে ইউএস-বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে একের পর এক দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। চলমান সংঘাতের কারণে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। গত বুধবার পর্যন্ত মোট ১৭৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। 

তবে, এই সংঘাতের মধ্যেও  দুবাইয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বুধবার (৪ মার্চ) প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। পরে ফ্লাইটটি দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ঢাকায় অবতরণ করে। ফ্লাইটিতে মতে  জন যাত্রী ছিলো।

আরেকটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হবে। একই ফ্লাইট আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিয়ে দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।  মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব যাত্রী সেখানে আটকে পড়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী ও আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় দ্রুত বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন মানবিক ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। প্রবাসীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর এই উদ্যোগকে অনেকেই সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। সংকটের এই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে গত কয়েকদিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। কবে যাত্রা সম্ভব হবে, টিকিট রিশিডিউল বা রিফান্ড কীভাবে পাওয়া যাবে—এসব প্রশ্নে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও। আকাশসীমা বন্ধ এবং অধিকাংশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিত থাকায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ অবস্থায় দেশে আটকে পড়ায় অনেক প্রবাসীর ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আবেদন গ্রহণ করছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের বিষয়ে বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শিগগিরই শেষ হতে পারে, তাদের বিষয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে গত পাঁচ দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ১৭৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীরা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে অনেকেই দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের নতুন টিকিট ইস্যু বা রিফান্ড পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তবে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা–চট্টগ্রাম–আবুধাবি–ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। 

এছাড়া দুবাই রুটেও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দেয় ইউএস-বাংলা। ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানায় ইউএস বাংলা। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী ছয়টি রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও মাস্কাট রুটে ফ্লাইট যথারীতি চলবে। স্থগিত রুটগুলোর যাত্রীরা কোনো চার্জ ছাড়াই টিকিট ফেরত নিতে পারবেন অথবা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন।


 

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ