প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলাকালে চারজন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তদন্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে গত ২৬ জুলাই জারি করা যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি ‘গোপনীয়’ চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), ইমিগ্রেশন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক ও বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, যিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশপ্রাপ্ত এবং একই সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর-অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তা, যিনি রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলির আদেশপ্রাপ্ত।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে যে তদন্তাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা গোপনে বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিঠির সঙ্গে চার কর্মকর্তার নাম, পদবি, স্থায়ী ঠিকানা এবং পাসপোর্টের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে দেশের কোনো স্থল, নৌ বা বিমানবন্দর দিয়ে তারা দেশত্যাগ করতে না পারেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।