প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ক্রীড়া সম্পর্ক এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতে চলমান ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ বিদ্বেষী ক্যাম্পেইন’-এর কারণে দেশটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারতে গত ১৬ মাস ধরে যে বাংলাদেশ বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিসিআই যখন উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয়, তখন আর কোনো প্রমাণের প্রয়োজন থাকে না।
আমরা মনে করি, ক্রিকেটের ওপর কারও খবরদারি থাকা উচিত নয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে কোনো টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে না।’
বিসিবি ইতিমধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতের বাইরে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। তবে আইসিসি এই আবেদন নাকচ করে ভারতের ভেতরেই চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ‘চেন্নাই বা তিরুবনন্তপুরম তো ভারতেই।
আমাদের কথা পরিষ্কার—ভারতের কোনো জায়গাতেই এখন খেলার পরিবেশ নেই। যদি ভেন্যু বদলাতেই হয়, তবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা আরব আমিরাতে করা হোক, আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
আইসিসি যদি সত্যিই একটি বৈশ্বিক সংস্থা হয়ে থাকে এবং ভারতের কথায় পরিচালিত না হয়, তবে তারা বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। জানা গেছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই বিসিবির এই আবেদনের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে পারে আইসিসি।
এছাড়া আইসিসি থেকে পাঠানো নিরাপত্তার ঘাটতি সংক্রান্ত একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যা শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের পরামর্শে রিলিজ দেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে সেখানে যেতে নারাজ বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র চার সপ্তাহের কম সময় বাকি। এই সংকটের সমাধান কোন পথে হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।