প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অন্যতম অসংক্রামক রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ওষুধ বা ইনসুলিন নিয়মিত গ্রহণ এবং চিকিৎসকের ফলোআপ বজায় রাখা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, আঁশসমৃদ্ধ খাবার ও পরিমিত পরিমাণে শর্করা রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা অন্য কোনো ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের শুধু রক্তে শর্করা নয়, নিয়মিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনির কার্যকারিতা এবং চোখের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রতিদিন পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি, কারণ ডায়াবেটিসের কারণে ছোট ক্ষতও বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা পায়ের ক্ষত দীর্ঘদিনেও না শুকালে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসকে অবহেলা না করে নিয়মিত চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপন অনুসরণ করলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক, চোখের ক্ষতি ও স্নায়ুর জটিলতাসহ নানা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।