• ঢাকা শনিবার
    ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

যেভাবে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম একটি শাসনব্যবস্থায় চলে ইরান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:০১ এএম

যেভাবে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম একটি শাসনব্যবস্থায় চলে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক শাসনব্যবস্থায় চলে ইরান। দেশটিতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ প্রেসিডেন্টের। আর সর্বক্ষমতার অধিকারী সুপ্রিম লিডার। এছাড়া দেশটির শাসনব্যবস্থায় পার্লামেন্ট, গার্ডিয়ান কাউন্সিল, বিশেষজ্ঞ পরিষদ ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ।

ইরানের শাসন ক্ষমতা মূলত সর্বোচ্চ নেতার হাতেই। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতা তিনি। দেশের সব নিরাপত্তা বাহিনীও তার নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রধানও নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর এ পর্যন্ত মাত্র দু‍‍`জন সর্বোচ্চ নেতা হতে পেরেছেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর, ১৯৮৯ সাল থেকে এই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

ভোটে নির্বাচিত ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদধারী, যার মেয়াদ চারবছর। সরকারপ্রধান হিসেবে সংবিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার। অর্থনৈতিক নীতিসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করেন তিনি। নিয়োগ দেন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও। ইরানে একজন দু‍‍`বারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মুখোমুখি করতে পারে পার্লামেন্ট।

ইরানের মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রেসিডেন্ট। তবে তার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগে। পার্লামেন্ট যে কোনো মন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টকেও ইমপিচ করতে পারে।

দেশটির পার্লামেন্টের নাম মজলিস, যার সদস্য সংখ্যা ২৯০। মজলিস সদস্যদের মেয়াদও চারবছর। আইন তৈরি, জাতীয় বাজেট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা রয়েছে পার্লামেন্টের। তবে পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন বাস্তবায়নে লাগে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমতি।

ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান গার্ডিয়ান কাউন্সিল। পার্লামেন্টে পাস হওয়া যেকোনো বিলে ভেটো দিতে পারে ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল। এছাড়া পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন সেটিও তারা চূড়ান্ত করে। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ৬ সদস্যকে নির্বাচিত করেন সর্বোচ্চ নেতা। বাকিদের নাম প্রস্তাব করে আইন বিভাগ। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের অনুমোদন দেয় পার্লামেন্ট।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞ পরিষদ। ৮৮ সদস্যের এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। দেশের শীর্ষ ব্যক্তির কাজের ওপর নজরদারি করার ক্ষমতা আছে তাদের। এমনকি অযোগ্য মনে হলে তাকে পদচ্যুতও করতে পারে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। প্রতি আট বছর অন্তর এই পরিষদের ভোটাভুটি হয়। সুপ্রিম লিডারকে পরামর্শ দেয়ার জন্য রয়েছে এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল। ৪৫ সদস্যের এ কাউন্সিলের সবাইকে নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ নেতা নিজেই।

দেশটির প্রধান বিচারপতিকেও নিয়োগ দেন শীর্ষ নেতা। প্রধান বিচারপতি দেশের বিচার বিভাগেরও প্রধান। ইসলামি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব।

আর্কাইভ