প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
জ্বালানি সম্পদ ইউরোপে সরবরাহ কমিয়ে দিতে চায় রাশিয়া। নতুন বাজার হিসেবে এশিয়াকে নজরে রেখেছে মস্কোর সরকার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিষয়টি বিবেচনায় নিতে নির্দেশও দিয়ে রেখেছেন।
পুতিনের মতে, ইউরোপ ইতোমধ্যেই রাশিয়ার গ্যাস ও এলএনজি ক্রয়ে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি বন্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মস্কোতে রুশ সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকে—কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়ান জ্বালানি ইউরোপে সরবরাহ বন্ধ করে সেগুলো এশিয়ার বাজারে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে সরকারকে ভাবতে নির্দেশ দেবেন।
পুতিন বলেন, ইউরোপ নিজেই ধীরে ধীরে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদ পুরোপুরি ত্যাগ করার পরিকল্পনা করছে। তারা এখনো বলছে—রাশিয়ার গ্যাস কেনার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আনবে, যার মধ্যে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)ও রয়েছে। এক মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২৪ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়ে ২৫ তারিখ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আর ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত যেতে পারে।
পুতিন তাই নতুন বাজারের দিকে ঝুঁকেছেন, এখন নতুন বাজার খুলছে। তাই হয়তো আমাদের জন্য বেশি লাভজনক হবে ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে সেই নতুন বাজারে যাওয়া এবং সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।
তিনি দাবি করেন, তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। পুতিন বলেন, এটা আসলে চিন্তা করা মাত্র। তবে আমি অবশ্যই সরকারকে আমাদের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মিলে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলব। রাশিয়া সবসময়ই তাদের অংশীদারদের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ভুল নীতি দায়ী বলে মনে করে রাশিয়া। বিশেষ করে ‘গ্রিন এজেন্ডা’ বা পরিবেশ নীতির অপব্যবহার এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।