• ঢাকা রবিবার
    ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদার বাহিনী সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক আকারে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম এক্সে জানায়, শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এসব হামলা চালানো হয়। ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আইএসের প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া পদক্ষেপ। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।

সেন্টকম বলেছে, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট ও শক্তিশালী—তোমরা যদি আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করো, আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকো না কেন, যতই ন্যায়বিচার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো, তোমাদের হত্যা করব।’

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ২০টিরও বেশি বিমান অংশ নেয় এবং ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। 

তিনি জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলোর মধ্যে ছিল এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোন এবং জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।

হামলাগুলোর নির্দিষ্ট অবস্থান এবং এতে হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

শনিবার এক্সে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘আমরা কখনো ভুলব না, কখনো থামব না।’

ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর ঘোষণা দেয়। এর আগে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের পালমিরায় এক আইএস বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং এক মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন।

ডিসেম্বরে এই অভিযানের ঘোষণা দিতে গিয়ে হেগসেথ বলেছিলেন, ‘এটি কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়—এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণকে রক্ষা করতে কখনো দ্বিধা করবে না এবং কখনো পিছু হটবে না।’

সেন্টকম জানায়, শনিবারের সর্বশেষ হামলার আগে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ হিসেবে ১১টি অভিযানে প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্যকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।

এই অভিযানের প্রথম মিশনটি পরিচালিত হয় ১৯ ডিসেম্বর। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডানের বাহিনী যৌথভাবে আইএসের বিরুদ্ধে একটি ‘ব্যাপক হামলা’ চালায়। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও কামান ব্যবহার করে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের একাধিক স্থানে অবস্থিত ‘৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়। সেই অভিযানে আইএসের পরিচিত অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে ‘১০০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ