প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলাদেশের ভূ-গর্ভস্থ প্লেটগুলোতে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই মাসের মাত্র ২৭ দিনের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০ বার মৃদু ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
সর্বশেষ আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চলতি মাসে সবচেয়ে জোরালো ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইউরো মেডিটেরিনিয়ান ভূমিকম্প কেন্দ্র- ইএসএমসি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা- ইউএসজিএস জানাচ্ছে, আজ শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩। এই ভূমিকম্পটি ২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।
খুলনা থেকে ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ও সাতক্ষীরা থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত আশাশুনি অঞ্চলে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান।
তার আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭।
এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যে, যা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের খুব কাছেই অবস্থিত।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতেও এক দফা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
যদিও এখন পর্যন্ত এসব ভূকম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বারবার এই কম্পন জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশের মানচিত্রে ভূমিকম্পের এক ধারাবাহিক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই মাসটি শুরু হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায়।
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পর পর দুবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারে। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় সিলেট অঞ্চলে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এভাবে ধারাবাহিকভাবে আজ পর্যন্ত নয়টি ভূমিকম্পের সাক্ষী হলো দেশবাসী।
ভূতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই ঘন ঘন কম্পনকে বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হতে থাকলে তা ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো শক্তি মুক্ত না হলে তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বাংলাদেশ মূলত ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই বেশি। কিন্তু বর্তমানে ছোট ছোট কম্পনের এই উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি বা হার ভবিষ্যতে একটি বিশাল মাত্রার ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে।