• ঢাকা শুক্রবার
    ০৮ মে, ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত হওয়ায় ফের ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন শুরু

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত হওয়ায় ফের ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন শুরু

সিটি নিউজ ডেস্ক

অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত হওয়ায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর মূল প্ল্যান্ট আবার উৎপাদনে ফিরেছে। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শোধনাগারটির উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ৮টায় প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

এর আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা একটি ট্যাংকার গত বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাহাজটি থেকে লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয় এবং তেল শোধনাগারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইআরএল আংশিকভাবে চালু ছিল। পরে ১২ এপ্রিল থেকে মূল উৎপাদন ইউনিট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শোধনাগারটির অন্যান্য ইউনিটও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়ে।

ইআরএলে দৈনিক প্রায় চার হাজার টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেলের চালান আসে। এরপর মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা বাড়তে থাকে, যা এপ্রিলের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। বাংলাদেশ জি টু জি (সরকারি চুক্তি) পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব তেল আমদানি করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একাধিক চালান বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে কিছু ট্যাংকার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যাত্রা শুরু করতে পারেনি বা মাঝপথে আটকে পড়ে।

বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায়, আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সাধারণত সরকারি পতাকাবাহী বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল ও রুট ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়।

এর ফলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তেলের সংকট চরমে পৌঁছালে ইআরএলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নতুন চালান নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে শোধনাগারটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আর্কাইভ