প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে চালকদের এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স খোয়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চালকরা আইন ভঙ্গ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে ডিমেরিট পয়েন্ট, মোট ১২ পয়েন্টে বাতিল হবে লাইসেন্স। এছাড়াও মোট ১৩ ধরনের অপরাধে পয়েন্ট কাটা গিয়ে শূন্য হলেই লাইসেন্স বাতিল হবে। তবে আপাতত চার চাকার যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
গাড়িচালক রাস্তায় চলার সময় কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে ট্রাফিক পুলিশ এতদিন মামলা দিতো গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে। আর মামলা বা জরিমানার মাসুল গুনতেন গাড়ির মালিকরা। তবে নতুন ব্যবস্থায় এবার শুধু মামলা বা জরিমানায় নয়, কাটা যাচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখন আরও কড়া নজরদারি ট্রাফিক পুলিশের। আইন ভাঙলেই হচ্ছে মামলা, সঙ্গে যোগ হয়েছে অটো মামলা। নতুন ব্যবস্থায় এসব অপরাধের হিসাব যুক্ত হবে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের সঙ্গেও। নির্দিষ্ট অপরাধে কাটা যাবে পয়েন্ট। কারও পূর্ণ ১২ পয়েন্ট কাটা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে লাইসেন্স।


এদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, গত দুই মাসে হাজারেরও বেশি চালক পয়েন্ট হারিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, শুধু মানুষকে জরিমানার আওতায় আনা বা পয়েন্ট কাটা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং মূল লক্ষ্য জনগণকে সচেতন করা। তিনি আরও বলেন, নতুন করে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে পয়েন্ট হারানোর পর আপিলের সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী ছয় মাসে কোনো অনিয়ম না করলে দুই পয়েন্ট পুনরায় যুক্ত হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, এখনও অনেক চালকই ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না।
একজন চালক বলেন, নিয়ম চালু হয়েছে, কিন্তু তিনি এখনও বিষয়টি জানেন না। আরেকজন চালকের ভাষ্য, সড়কের নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে মেনে চললে মামলা বা পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে না।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সড়ককে লেনভিত্তিক করতে হবে এবং চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ চালক অপেশাদারি পরিবেশে গড়ে উঠেছে, তাই তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা জরুরি।