প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুতই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ড ও সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রো-অ্যাকটিভ কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার গঠনের পর এ জাতীয় ক্রাইম (ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ড) যা হয়েছে, সবগুলোতেই পুলিশ কাজ করেছে। দ্রুত সময়ের আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।
বিচারহীনতার কথা সবসময় সঠিক নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বিলম্ব হয়, বিচার আদালতের বিষয়। তনু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করার, সবই চেষ্টা করছি।
অনেক কিছুই করার বাকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সময় মাত্র তিন মাস। সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগবে। আইন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। কিছু কিছু সংশোধন আনতে হবে। খুব সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে অবিচার করা হচ্ছে কি না, তাও দেখতে হবে।
জনগণের ক্ষোভ মেটাতে সাময়িকভাবে আইন প্রণয়ন সবসময় ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাগুরার আছিয়া, ঢাকার রামিসা- সবকিছুই আমাদের মানুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেবো না।
পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়াকে অতিদ্রুত করতে পারলে রামিসার বাবার প্রশ্নের জবাব দিতে পারব। কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার (৮) মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।