প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরই আভাস মিলছিল এবার বিদ্যুতের দাম বাড়বে। পাইকারি ও খুচরা— দুই পর্যায়েই মূল্য সমন্বয়ে তোড়জোড় শুরু করে পিডিবি ও বিতরণ কোম্পানিগুলো। এর আগেই আইন সংশোধন করে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি)। সে ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রস্তাব পায় কমিশন।
এবার পালা গণশুনানির। বুধবার (২০ মে) সকালে সে আয়োজনে পাইকারি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দেড় টাকা অর্থাৎ গড়ে ২১ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করে পিডিবি। যার প্রভাব পড়বে প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের ওপর।
পিডিবির দাবি, এই সমন্বয় না হলে চলতি অর্থবছর ঘাটতি ৬২ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে, যা পরের বছর আরও ৩ হাজার কোটি বাড়তে পারে। যার প্রায় ৫৪ শতাংশ ব্যয় হয় পল্লী বিদ্যুতের পেছনে।
নতুন প্রস্তাবে বিতরণ স্ল্যাব বদলানোর কথা বলেছে পিডিবি। সে হিসাবে শূন্য থেকে ৫০ বা ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ধাপ থাকবে না। ২শ` ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা থাকবেন একই স্ল্যাবে। যেখানে প্রতি ইউনিটের চলমান মূল্য ৭ টাকা ২০ পয়সা। এবার তা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৬৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেছেন, আমরা যেসব কোম্পানি থেকে বিদ্যুৎ নিই, নিজস্ব ও বেসরকারি কোম্পানির এগুলোর অনেকেরই মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে ও টাকায়। জ্বালানি ও ডলারের দাম বেড়েছে; আমরা মূল্য সমন্বয়ের কাজ করছি।
পিডিবির এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ভোক্তা অধিকার, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা। তারা দাবি জানান, বিইআরসি আইন সংশোধনের। এছাড়া, বিতরণ কোম্পানির ক্যাপাসিটি চার্জ ও সিস্টেম লসের দায় গ্রাহকের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, যারা প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, তারা ব্যয়ের কথা কিন্তু বলেননি। ব্যাংকে কত টাকা রেখে মুনাফা করছেন, সেই হিসাব নাই। সিএসআর ফান্ডের হিসাব নাই। এ সমস্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা নাই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, নতুন সরকার এসেছে, আমরা আশা করবো সেই সরকার বিইআরসির আইন পরিবর্তন করে জনস্বার্থের আইন করবে। তারপর ন্যায্যতার ভিত্তিতে গণশুনানির মধ্য দিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তার আগে এটি বন্ধ রাখেন।
ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি মনোপলিগুলো হবে কস্ট টু কস্ট। সেটাকে মুনাফার হিসাবে দেখানো হয়েছে। কীভাবে করলে মুনাফা বাড়বে, মূল্য করবে। কিন্তু মানুষের কষ্ট হবে সে বিষয়ে খবর নেই।
এ সময় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, শুনানি মানেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নয়। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় আন্তরিক হতে হবে পিডিবি, বিতরণ কোম্পানি ও গ্রাহকদের।
তিনি আরও বলেছেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সোলারকে যদি উৎসাহিত করি এবং ভবিষ্যতে যদি সোলারের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, নিসন্দেহে অধিকতর খরচ যেখানে হচ্ছে, সেই খরচটা কমে আসবে। নিসন্দেহে জনগণের ওপর বোঝা কমবে।
পরের সেশনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দাম ৬০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। গণশুনানির ২য় দিনে খুচরাপর্যায়ে দাম নিয়ে আলাদা প্রস্তাব দেয় বিতরণ কোম্পানিগুলো।