প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
এবারের নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নওগাঁয় এক জনসভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ভোট চুরি করা একটি পক্ষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু আবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে আরও একটি পক্ষ। এই দুই পক্ষ তলে তলে একসঙ্গে ছিল গত ১৫ বছর। এই ১৫ বছরে তারা কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল না, ভেতরে ভেতরে এরা দুই পক্ষই একসঙ্গে ছিল। তারা নির্বাচনে চক্রান্তের সুযোগ খুঁজছে এখন। একটাতো পালাইছে, আরেকটা ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, ভোটের দিন সবাই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে নিজ নিজ এলাকায় একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানরা সেখানে জামাতে নামাজ আদায় করবেন এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। সকাল সাতটায় ভোটকেন্দ্র খুলবে। ঠিক সেই সময়েই ভোট দেওয়া শুরু করতে হবে। কোনো দেরি করা যাবে না। অনেক সময় দেখা যায় ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন আছে, কিন্তু লাইন নড়ে না। বুঝতে হবে ভেতরে সিল মারা শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে সময় খালি ব্যালট বক্স দেখিয়ে পরে ভরা ব্যালট বক্স দেখানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

এ সময় নওগাঁর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় নওগাঁয়। কৃষকদের সহযোগিতায় কৃষি কার্ড দেয়া হবে। ওই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ পেতে সুবিধা হবে কৃষকদের। এছাড়া ধানের পাশাপাশি প্রচুর আমও হয় এ এলাকায়। কিন্তু পর্যাপ্ত হিমাগার নেই, সে ব্যবস্থা করা হবে। আম ও ফসল রাজধানীতে পরিবহনের জন্য রেল লাইন স্থাপন করা হবে। যে সুবিধায় শুধু ফসল নয়, মানুষও দ্রুত সবখানে যাতায়াত করতে পারে।
খেলাধূলার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যুব সমাজকে যে কোন মূল্যে খেলাধুলায় ফেরাতে হবে। এ জন্য খেলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে। আর এসব কিছু বাস্তবায়নের জন্য আপামর মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।
গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিপক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে অজস্র মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। তারা ভোটাধিকারের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দিতে হবে।