• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

ভোট কেনা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে ইসির হস্তক্ষেপ চাইলো বিএনপি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

ভোট কেনা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে ইসির হস্তক্ষেপ চাইলো বিএনপি

সিটি নিউজ ডেস্ক

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল অপপ্রচার, অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা এবং সহিংসতার পথে হাঁটছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, “গত ২২ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার নির্ধারিত সময় ছিল।

উৎসবমুখর এই সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।”

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই একটি নির্দিষ্ট দল অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে অভিযোগ করে মাহ্দী আমিন বলেন, “এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে; সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

ভোট কেনার অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, “যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি অভিযোগ করেন, “এই বিষয়ে খোদ দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫-তে তার জন্য দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।”

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে?”

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি-৪ উদ্ধৃত করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষ হইতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করিতে বা প্রদানের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করিতে পারিবেন না।

এছাড়া বিধি-২৭ অনুযায়ী শাস্তির বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ… প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।” 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, “আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুততম সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনা-১ আসনের সেই দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিলাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।

পাশাপাশি ভোট কেনার সংগঠিত পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এভাবেই নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দেশজুড়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে একটি দল… বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।”

সহিংসতার প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, “কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, “বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালানো হয়, অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে।”

এসব ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, “আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায় অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন তথা রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

শেষে মাহ্দী আমিন বলেন, “বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।”

রাজনীতি সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ