প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হাম-এর প্রাদুর্ভাব। একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা এই সংক্রামক রোগটি নতুন করে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—স্কুল-কলেজ বন্ধ করা কি জরুরি, নাকি বিকল্প কোনো পথ খোঁজা উচিত?
সরকার ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে সহজেই অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, যার সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাবও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে অনলাইন শিক্ষাও সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না। তাই হঠাৎ করে সারাদেশে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়তো সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়।
এক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও অঞ্চলভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। যেখানে সংক্রমণ বেশি, সেখানে সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চালু রাখা সম্ভব। যেমন—শিক্ষার্থীদের মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে স্কুলে না আসা, এবং দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভিভাবক, শিক্ষক এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়। গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে না দিয়ে, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার যদি দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করে এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সুতরাং, হাম পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কি না—তা নির্ভর করা উচিত বাস্তব পরিস্থিতির ওপর, আতঙ্কের ওপর নয়। সচেতনতা, টিকাদান এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করাই এখন সময়ের দাবি।