• ঢাকা শুক্রবার
    ০৫ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গোল উদযাপনে নেইমারদের নাচ নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন তিতে

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২২, ১১:৩২ পিএম

গোল উদযাপনে নেইমারদের নাচ নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন তিতে

ক্রীড়া ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচে সর্বসাকুল্যে তিনটি গোল দিতে পেরেছিল ব্রাজিল। আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামনে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডদের হতোদ্যম হওয়া নিয়ে কথাও উঠছিল বেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে গ্রুপপর্বের করা গোলের কোটা ছাড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের আক্রমণভাগ নিয়ে ওঠা সমালোচনাও বন্ধ করে দিলো ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত কোরিয়ানদের ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে তিতের শিষ্যরা।

সোমবার রাতে (৬ ডিসেম্বর) নকআউট পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে নেইমাররা গোল উদযাপনে দেখিয়েছেন নতুন চমক। তিতের শিষ্যরা এ দিন প্রতিটি গোলের পরই উদযাপন করছিলেন দৃষ্টিনন্দন নাচ দিয়ে। ম্যাচে রিচার্লিসনের গোলের পর নেচে ওঠেন কোচ তিতেও! এ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

তবে, ম্যাচের পর ব্রাজিলিয়ান কোচ বললেন, শিষ্যদের আনন্দে একাত্ম হতেই তার অমন উদযাপন। 

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়ার ম্যাচে ছন্দময় ও নান্দনিক ফুটবলের পসরা মেলে ধরে ব্রাজিল। মরুর বুকে এই রাতে সাম্বার ফুল ফুটিয়ে তোলেন তারা। বিনোদনদায়ী ফুটবলে শুধু দর্শকের মন রাঙানোই নয়, তারা নিজেরাও মেতে ওঠেন উপভোগের আনন্দে। প্রতিটি গোলের পরই উদযাপনে দেখা যায় তাদের নাচের ছন্দ। 

চোখধাঁধানো স্কিল ও সৌন্দর্যের ঘোর লাগিয়ে যখন দলেল তৃতীয় গোলটি করেন রিচার্লিসন, মাঠের উদযাপন শেষে তিনি ছুটে যান ডাগ আউটের দিকে। সেখানে তাদের সঙ্গে নেচে ওঠেন তিতেও। 

এভাবে মেতে উঠতে তাকে আগে দেখা গেছে কমই। ৬১ বছর বয়সী কোচ পরে বললেন, ম্যাচের আগেই শিষ্যরা তাকে কথা দিয়েছিলেন যে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তারা তাকে নাচিয়ে ছাড়বেন। ফুটবলারদের চরিত্র ও মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া ও ধারণ করার চেষ্টা করি আমরা। এই ছেলেরা খুবই তরুণ। আমি চেষ্টা করি ওদের সঙ্গে একাত্ম হতে। ওই নাচ ছিল ওদের চরিত্রকে ধারণ করারই অংশ।” একের পর এক গোলের পর ব্রাজিলিয়ানদের অমন নাচ ভালো লাগেনি আইরিশ গ্রেট রয় কিনের। ইংল্যান্ডের আইটিভির আলোচনায় এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গ্রেট সমালোচনায় বিদ্ধ করেন তিতে-নেইমারদের।

তিনি বলেন, “প্রতিবার গোল দিয়ে এ রকম উদযাপন করাটা অপমানজনক। একটি গোলের পর এ রকম হলে মানা যায়, প্রতি গোলের পরই নয়। পরে তাদের ম্যানেজারও সেখানে সামিল হলেন। আমার এটা ভালো লাগেনি। লোকে বলে, এটা নাকি তাদের সংস্কৃতি। আমার তো মনে হয়, এটা প্রতিপক্ষকে অসম্মান করা।” 

তবে তিতে ম্যাচের পর বললেন, “তাদের এই উদযাপন কেবলই নিজেদের উচ্ছ্বাস ফুটিয়ে তোলার মাধ্যম। নিজেদের সাফল্যের আনন্দ প্রকাশ করা ছাড়া এই উদযাপনের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। দলের জন্য আনন্দ, পারফরম্যান্সের খুশিই মিশে আছে এতে। প্রতিপক্ষের প্রতি বা প্রতিপক্ষ কোচ পাওলো বেন্তোর প্রতি অসম্মানের কোনো কিছু এতে নেই, বরং তাকে (বেন্তো) আমি অনেক সম্মান করি।” 

হেক্সা জয়ের মিশনে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে গতবারের রানার্সআপদের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

 

 

 

/এএল

 

আর্কাইভ