• ঢাকা শুক্রবার
    ০৫ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ফুটবল

বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়েও চূড়ান্ত পর্বে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৩, ০৩:৪৩ পিএম

বাছাইয়ে ব্যর্থ হয়েও চূড়ান্ত পর্বে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্ব পার হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তারপরও লিওনেল মেসির দেশটিকে দেখা যাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে। শুধু তাই নয়, পূর্ব নির্ধারক আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার পরিবর্তে এখন তাদেরকে আয়োজক হিসেবে দেখা যেতে পারে।


দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে বাছাইয়ে শীর্ষ চারে থাকতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল, কলাম্বিয়া, ইকুয়েডরের পাশাপাশি উরুগুয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। চূড়ান্ত পর্বে খেলার স্বপ্ন ভ্ঙ্গ হওয়ায় কোচও পদত্যাগ করেন। 


মূলত এবারের বিশ্বকাপে ইসরায়েল সুযোগ পাওয়ায় মূল সমস্যাটা তৈরি হয়। ইসরায়েলের বিরোধিতায় আয়োজক দেশটিতে বিক্ষোভ দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ফিফা ইন্দোনেশিয়া থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেয়। যদিও, এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্বজুড়ে ফিফার এক নীতি, ফুটবল মাঠে থাকবে না কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ। যে, ঘরানারই হোক না কেন, মাঠের লড়াই থাকবে সবার ঊর্ধ্বে। যদিও, নানা সময়েই অভিনব সব উপায়ে ফিফার এ আইন অমান্য করেছেন ফুটবলাররা। এবার সেই রাজনীতির শিকার হলো আবারও ফুটবল। চলতি বছরের ২০ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াতে হওয়ার কথা ছিলো ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আসর।


ইন্দোনেশিয়া মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় কোন অবস্থাতেই তারা ইসরাইলিদের নিজেদের দেশে আসতে দিতে রাজি নয়। এ নিয়ে পথে পথে বিক্ষোভও করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কিছু বলা না হলেও, তাদের মনোভাবও ছিলো আন্দোলনের পক্ষে। পাশপাশি বালি‍‍`র গভর্নর‍‍`ও ইসরাইলকে স্বাগত জানাতে অনীহা প্রকাশ করা হয়।


বাধ্য হয়ে তাই নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয় ফিফা। বাতিল করা হয় তাদের জাকার্তার সম্মেলনও। এবার সে ধারাবাহিকতায় স্থগিত করা হলো বিশ্বকাপ আয়োজনও। এরকম রাজনৈতিক বৈরিতার মাঝে বিশ্ব আসর করতে চায় না ফিফা। তবে, ফিফার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় ইন্দোনেশিয়ানরা।


একজন ইন্দোনেশিয়ান ফিফার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‍‍`ইসরাইলকে বয়কট করার সিদ্ধান্তটা আমাদের সবার না। যারা আন্দোলন করছে তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ইন্দোনেশিয়া শুধু তাদের দেশ নয়। আর ফুটবল কখনই রাজনীতির শিকার হতে পারেনা।‍‍`


এদিকে আরেকজন সমর্থক বলেন, ‘এটা ফিফা কোনোভাবেই ঠিক করে নি। এটা আমাদের জন্য হতাশার। দেশের একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আন্দোলনের কারণে এতো বড় সুযোগ কেড়ে নেয়া উচিত নয়। আমার মনে হয় ফিফার এটা ভেবে দেখা উচিত।’


নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গের মতো বিষয় হয়ে গেলো ইন্দোনেশিয়ার জন্য। ইসরাইলকে আটকাতে গিয়ে যে তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইটাও পড়ে গেছে শঙ্কায়।

আর্কাইভ