প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ব্যাট হাতে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর বল হাতে ঝলক দেখালেন চোট কাটিয়ে দলে ফেরা মুস্তাফিজুর রহমান। এই বাঁহাতি পেসার তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট। তাতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল মেহেদি হাসান মিরাজের দল।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দেয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড। এ নিয়ে ঘরের মাঠে টানা তৃতীয় সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। কিউইদের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের দেয়া চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৮ রানের মাথায় মুস্তাফিজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন কিউই ওপেনার হেনরি নিকোলস। বিদায়ের আগে এই বাঁহাতি ব্যাটার ১০ বলে ১ বাউন্ডারিতে মাত্র ৪ রান করেন।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়ে খেলায় গতি ফেরান নিক কেলি এবং উইল ইয়াং। ইয়াংকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা । তার করা অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ইয়াং। ২৫ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৯ রান করেন তিনি।
৫৪ রানে ২ উইকেটে হারানোর পর বড় দায়িত্ব ছিল টম ল্যাথামের কাঁধে। কিন্তু উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়েছেন অধিনায়ক। ইনিংসের ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলটি মিডল স্টাম্পের ওপর করেছিলেন মিরাজ, সেখানে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে বল চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শরিফুলের হাতে। ১৩ বলে ৫ রান করেছেন ল্যাথাম।
চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন কেলি। এর মধ্যেই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটির দেখা পান কেলি। তবে এই ব্যাটার নিজের উইকেটটা বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন মুস্তাফিজের স্লোয়ারে কাট করতে গিয়ে কাভারে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এই ব্যাটার করেন ৫৯ রান।
ভালো শুরু করা আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল। ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি। তাতে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় কিউইরা। এরপর ডিন ফক্সকর্ফট ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। তার ৭২ বলে ৭ ছক্কায় ৭৫ রানের ইনিংস কেবলই হারের ব্যবধান কমিয়েছে।
বোলিংয়ে ৯ ওভারে ২ মেইডেনসহ ৪৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। নাহিদ রানা ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ পান ২টি করে উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলামের শিকার ১টি উইকেট।
এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৯ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পিছনে টম ল্যাথামের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম করেন ৫ বলে ১ রান।
এরপর দলের হাল ধরান চেষ্টা চালান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই জুটিটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য। এরপর চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস।
শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকলেও ক্রমেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। তাতেই বাড়তে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটিতে দুজন মিলে তোলেন ১৬০ রান। তাতেই ভালো সংগ্রহের ভিত পেয়েছে টাইগাররা। ফিফটি পূরণের পর ৭৬ রানে থামেন লিটন।
এ দিকে ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন শান্ত। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরানের ইনিংস। শান্তর ইনিংস থামে ১০৫ রানে। ১১৯ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ৯টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।
এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২২, শরিফুল ইসলাম ১, তানভীর ইসলাম শূন্য রানে আউট হন। এ ছাড়া ৩৩ রানে তাওহীদ হৃদয় ও ৩ রানে মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকেন।