• ঢাকা বুধবার
    ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

আলেশা মার্টের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদাসীন কেনো?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২২, ০৯:৩৫ এএম

আলেশা মার্টের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদাসীন কেনো?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ই-কমার্স খাতে অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এর ভিন্নতা দেখা যায় আলেশা মার্টের ক্ষেত্রে। প্রতিষ্ঠানটি করে যাচ্ছে একের পর এক অনিয়ম। তবে সেদিকে নজর দেয়ার বিষয়ে তেমন গতি নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বলছে, আলেশা মার্ট প্রধান মঞ্জুর আলম শিকদার মাত্র দুই কোটি টাকা ব্যাংকে রেখে গ্রাহকদের বিনিয়োগের প্রায় ১ হাজার ৯৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। এত টাকা তুলে তিনি কোথায় রেখেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো সংস্থার পক্ষে পাওয়া না গেলেও সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এই টাকা পাচার করা হয়েছে।

এই টাকার সন্ধান করতে গিয়ে সিআইডির প্রাথমিক তদন্তেও মিলেছে সত্যতা। তারপরও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এমনকি থানায় থানায় ঘুরছে অসংখ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা। কিন্তু তারপরও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো নজির নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। 

পুলিশ দাবি করছে, মঞ্জুর আলম শিকদার আত্মগোপনে আছেন। তাই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। 

মঞ্জুর আলম শিকদার আত্মগোপনে কিনা, তার সন্ধান করতে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তিনি নিঃসংকোচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি পূর্ব ঘোষণা দিয়ে আসছেন ফেসবুক লাইভেও। আধুনিকতার এই যুগে এড্রেস ট্রেস করে তাকে গ্রেফতার না করাটাকে অবহেলা কিংবা সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে ব্যক্তি লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে হাজার হাজার মানুষের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন তিনি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ধুরন্ধর ও চতুর প্রকৃতির। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অবশ্যই ব্যাংকে রাখার ঝুঁকি নেবেন না। তিনি এই টাকা ক্যাশ করে কোথাও লুকিয়ে রাখবেন অথবা বিদেশে পাচার করবেন। সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের নিরবতা অন্য কিছুর ইঙ্গিত করে।

এ বিষয়ে কথা হলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যপাক মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ‘কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত থাকার পরও আইনি পদক্ষেপ না নেয়া এক ধরনের অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে তাহলে অভিযুক্ত বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশের বিষয়টি সহজেই অনুমান করা যায়।’

আলেশা মার্ট সংক্রান্ত আরও সংবাদ পড়ুন 

এদিকে গ্রাহকরা অভিযোগ তুলছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আছেন আলেশা মার্টপ্রধান। আর সেই সুযোগ ব্যবহার করে নিজেকে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।

কথা হয় সাইফুল নামক প্রতারিত এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজাজ পালসার মডেলের একটি বাইকের অর্ডার দিয়েছিলাম। বাইক ডেলিভারি দেয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর মঞ্জুর আলমের বাড়ির সামনে অপক্ষো করি। সেখানে এমআরপি মূল্য সমমানের চেক দেয়। ব্যাংকে গেলে টাকা না পেয়ে আলেশা মার্টে অভিযোগ করি। সেই অভিযোগের উত্তর আজও মেলেনি। 

তিনি বলেন, মঞ্জুর আলম শিকদার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে হাত করে নিয়েছে। তাই এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে তারপরও কোনো অ্যাকশন না নেয়াটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক ধরণের উদাসীনতার পরিচয়। 

উল্লেখ্য, ই-কমার্সের নামে চমকপ্রদ ও লোভনীয় বিজ্ঞাপনে হাজারো গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আলেশা মার্ট চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদার। কিন্তু সেখানেই ক্ষ্যান্ত হননি তিনি। একের পর এক বিছিয়েছেন প্রতারণার জাল। তার সুনিপুন প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য গ্রাহক।

 

এআরআই

আর্কাইভ