• ঢাকা মঙ্গলবার
    ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

রফতানির আড়ালে ৪ প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ৩৮০ কোটি টাকা

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৩, ১০:১৭ পিএম

রফতানির আড়ালে ৪ প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ৩৮০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের চারটি প্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করে রফতানির আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৭৮০টি চালানের বিপরীতে ৩৮০ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে প্রমাণ মিলেছে। 

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর কাকরাইলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ফখরুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, রফতানিকারক কিছু প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি করছে, কিন্তু রফতানি মূল্য (বৈদেশিক মুদ্রা) দেশে আসছে না। এমন অভিযোগে চট্টগ্রামে উত্তর পতেঙ্গায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। 
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, রফতানিকারকদের ঘোষণা অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ৩৮০ কোটি টাকা। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ যদি অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যেই এটা করা হয়ে থাকে, তাহলে অর্থ কমিয়েই এসব পণ্যের মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে ধারণা তার। তিনি বলেন, ‘পাচারই যখন প্রধান লক্ষ্য, তখন তারা পণ্যের মূল্য যথাযথভাবে দেখাবেন না।’
পণ্য রফতানির আড়ালে চারটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফখরুল আলম আরও বলেন, ‘ঢাকার কাকরাইলের ঠিকানায় নিবন্ধনকৃত এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৩৮২টি রফতানি পণ্যের চালান বিদেশে রফতানি করেছে। এসব চালানে টি-শার্ট, টপস, লেডিস ড্রেস জাতীয় পণ্য ছিল। স্বাভাবিকভাবে বললে, এগুলো তৈরি পোশাক। পণ্যের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন। এর মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে ২৮২ কোটি টাকা। পণ্যগুলো আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার ও যুক্তরাজ্যের বাজারে রফতানি হয়েছে।

রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকার জব্বার মার্কেটের একটি প্রতিষ্ঠান ইমো ট্রেডিং কোম্পানি ২৭৩টি চালান বিদেশে রফতানি করেছে। পণ্যের ধরন একই। পরিমাণ ২৫২৩ টন এবং টাকা পাচারের পরিমাণ ৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়াও একই এলাকার আরেক প্রতিষ্ঠান সাবিহা সাইকি ফ্যাশন ৮৬টি চালান বিদেশে রফতানি করেছে। যাদের পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯৯৭ টন এবং এর মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। রফতানিকারক অপর প্রতিষ্ঠানটির নাম ইলহাম। উত্তরার ঠিকানায় নিবন্ধন পাওয়া এই প্রতিষ্ঠান ৩৯টি চালানে ৬৬০ টন পণ্য রফতানি করেছে এবং এর মধ্যে ১৭ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই চার রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান লিমাক্স শিপার্স লিমিটেড নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের জোগসাজশে বিল অব এক্সপোর্টে অন্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ইএক্সপি এবং ভুয়া সেলস কন্ট্রাক্ট ব্যবহার করেছে বলেও জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে।’

 

আরিয়ানএস/এএল

আর্কাইভ