• ঢাকা শুক্রবার
    ১৪ জুন, ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হতাশ

আমদানির হুঁশিয়ারিতে নিম্নমুখী পেঁয়াজের বাজার

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৩, ০৮:০১ পিএম

আমদানির হুঁশিয়ারিতে নিম্নমুখী পেঁয়াজের বাজার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

কৃষকদের ‍উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে গত ১৬ মার্চ থেকে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। এতে দেশের বাজারে দফায় দফায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। আর ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের লাগাম টেনে ধরতে পেঁয়াজ আমদানি করার হুঁশিয়ারি দেন কৃষিমন্ত্রী। যার পরিপ্রেক্ষিতে হিলি স্থলবন্দরের দিয়ে রফতানির উদ্দেশ্যে সীমান্তের ভারত অভ্যন্তরে ১৫ থেকে ১৬টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রস্তুত রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের হতাশ করে নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে দাম।

বিগত ২ মাস ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের পেঁয়াজের বাজার লাগামহীন হয়ে যায়। দফায় দফায় দাম বাড়তে বাড়তে তা কেজিতে ৮০ টাকায় উঠে যায়।

বন্দরের আমদানিকারকরা জানান, আমদানির অনুমতি (আইপি) না থাকায় গত দুই মাসের অধিক সময় ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আসছে না। এই অবস্থায় বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের ঘাটতিতে গত এক মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। এতে গত দুদিনে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হয়েছে। তবে এখন দাম নিম্নমুখী। বর্তমানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

দেশে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে লাগাম টেনে ধরতে পেঁয়াজ আমদানি করার আভাস দেয় সরকার। পেঁয়াজের দাম না কমলে দু-একদিনের মধ্যে পণ্যটি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। কাজেই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি আসতে পারে, এমন আশায় ভারতের ব্যবসায়ীরা দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে রফতানির উদ্দেশ্যে অন্তত ১৫টি থেকে ১৬টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক সীমান্তের ভারত অভ্যন্তরে প্রস্তুত রাখে।

তবে এরই মধ্যে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি কথা জানান কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। যার প্রভাবে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানের হিলি বন্দরে মঙ্গলবার (২৩ মে) প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ প্রায় ১৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। এতে হতাশ ভারতীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশে দাম নিম্নমুখী হওয়ায় রফতানি না হওয়ার কারণে প্রচণ্ড গরমে ভারতীয় ট্রাক থেকে পেঁয়াজ খালাস করে গুদামে মজুত করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পাপ্পু আগরওয়াল জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের পেঁয়াজ বাজার অস্থির। এখন অবস্থায় সেখানের সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে দাম স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন সংবাদ পেয়েছি আমরা। তাই দু-একদিনের মধ্যে রফতানির অনুমতি আসতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখে আমরা আগে থেকেই ১৫ থেকে ১৬টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু সোমবার জানলাম আরও কয়েকদিন পর আমদানি করা হবে। ফলে সোমবার (২২ মে) বিকেলের দিকে ট্রাক থেকে পেঁয়াজ খালাস করে গুদামে রাখা হয়েছে। কারণ গরমে পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছিল।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির জন্য প্রস্তুতি নেয়া থাকার কথা জানিয়ে ভারতের আরেক ব্যবসায়ী পান্না বলেন, বিভিন্ন গুদামে ৫০০ থেকে ৬০০ টন পেঁয়াজের মজুত আছে। যখনই বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে রফতানি করতে পারব।

বর্তমানে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ টাকার মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করছিলাম যে সোমবার হয়তো রফতানি করতে পারব। সেই জন্য পেঁয়াজগুলো গত ৩ দিন আগে ১৫ থেকে ১৬টি ট্রাকে এনে বন্দরের পার্কিংয়ে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন আগে আমদানি করার জন্য সীমান্তের ওপারে ১৫টি ট্রাকে পেঁয়াজ লোড করে রাখা হয়েছিল। দু-একদিনের মধ্যে আমদানি করার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু আমদানিতে কোনো সুখবর না পাওয়ায় সেই পেঁয়াজ সোমবার বিকালের দিকে খালাস করে সেখানকার গুদামে রাখা হয়েছে। এই কয়েকদিনে লোড অবস্থায় থাকায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো আমরা অপেক্ষায় আছি। সরকার আমদানিতে অনুমতি দিলেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার স্বাভাবিক রাখা হবে।

ভারতের আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে আসলে দাম অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, ফলে ক্রেতারা কমে দামে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।


হিলি বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। সরকার অনুমতি দিলেই আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করব। আমরা আইপির অপেক্ষায় রয়েছি।

পেঁয়াজ আমদানির জন্য এখন পর্যন্ত খামারবাড়ি থেকে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ইস্যু করা হয়নি উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী মো. ইউসুফ আলী জানান, আইপি ইস্যু করা হলে আমাদের সার্ভারে আপলোড করা হবে। ,

 

জেকেএস/
 

অর্থ ও বাণিজ্য সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ