• ঢাকা শুক্রবার
    ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২

পঞ্চগড়ে শীতের পিঠায় এতিম শিশুদের মুখে হাসি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

পঞ্চগড়ে শীতের পিঠায় এতিম শিশুদের মুখে হাসি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

শীতের সকালে মিষ্টি পিঠার ঘ্রাণ আর আনন্দের হাসিতে মুখর হয়ে উঠেছিল পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী। সেখানে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবে অংশ নেয় প্রতিষ্ঠানটিতে বসবাসরত এতিম, পথশিশু ও পরিবারবিচ্ছিন্ন প্রায় দেড় শতাধিক শিশু। 

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিশু নগরীটি বর্তমানে ১৫০ জন শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এদের বেশির ভাগই শৈশবেই হারিয়ে গেছে পরিবার থেকে, অনেকেরই নেই বাবা-মায়ের পরিচয়। 

শুক্রবার দুপুরে শিশুদের আনন্দ দিতে পঞ্চগড়ের সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকারের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় শীতের ঐতিহ্যবাহী দুধ পিঠার উৎসব। নিজ হাতে শিশুদের পিঠা পরিবেশন করেন তিনি। এতে শিশু নগরীতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, চোখেমুখে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস আর আনন্দ।

পিঠা খেয়ে খুশির কথা জানায় আব্দুর রাহিম নামে এক শিশু। সে বলে, অনেক দিন পর এমন মজার পিঠা খেলাম। খুব ভালো লাগছে।

হযরত নামে আরেক শিশু জানায়, আজকে আহসান আঙ্কেল এসে আমাদের পিঠা খাওয়াইছে। পিঠা খাইছি, খুব আনন্দ লাগছে। তার জন্য সবসময় দোয়া করবো।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার বলেন, এই শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শীতের পিঠার আনন্দ তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই এই ছোট আয়োজন। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, শিশুদের জন্য এ ধরনের আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজ শিশুরা খুব আনন্দিত। সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি এসব এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকারকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। শিশুদের জন্য এমন উৎসবমুখর পিঠা আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।

আর্কাইভ