প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো তেল বা অর্থ কিউবায় যাবে না।
তিনি সমাজতান্ত্রিক শাসিত এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে সতর্ক করে দিয়ে দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলা কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ হলেও গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর অভিযানে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর থেকে সেখান থেকে কিউবায় তেলের কোনো চালান পাঠানো হয়নি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম `ট্রুথ সোশ্যাল`-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় লিখেছেন, কিউবার জন্য ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের জোগান এখন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ।
তিনি কিউবা সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন যে অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাদের একটি ‘ডিল’ বা চুক্তিতে আসা উচিত। ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবা দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার একনায়কদের নিরাপত্তা সেবা প্রদান করত, যা এখন আর সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। এমনকি ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইঙ্গিতবাহী একটি পোস্ট শেয়ার করে তাতে নিজের সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল ট্রাম্পের এই হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, কিউবা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং কেউ তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৬৬ বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হয়ে আসছে এবং তারা মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজও একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেপরোয়া আধিপত্যবাদী’ আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যে কোনো দেশের কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির সার্বভৌম অধিকার কিউবার রয়েছে বলে জোর দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার এই তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিউবার জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। দেশটি বর্তমানে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধি এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি কিউবার বর্তমান সরকারকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।