প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেছেন, আমেরিকা-ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসন জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহের দিকে ঝুঁকছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে গার্ডিয়ান।
ফাতিহ বিরল বলেন, ইরানে আগ্রাসনের জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সারা বিশ্বেই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আস্থা হারিয়ে গেছে। একই সঙ্গে এর চাহিদাও কমে আসছে।
তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি ও বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণা পাল্টে যাবে। বিভিন্ন দেশের সরকার নতুন করে নিজ নিজ জ্বালানির কৌশল বিবেচনা করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরমাণু শক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদ্যুচ্চালিত ব্যবস্থাপনার দিকে বিশ্ব আরো ঝুঁকে পড়বে। এর ফলে তেলের দামে বাজারে ভাটা পড়বে।’
আইএইএর এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ সংকট থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই। যে পাত্র ছিল, তা ভেঙে গেছে। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আবার পাত্রের প্রতিটি টুকরো অংশ জোড়া লাগানো কঠিন। সামনের বছরগুলোতে এটি বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারের স্থায়ী পরিণতি হতে যাচ্ছে।’
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট ও ভবিষ্যৎ চাহিদার বিষয়ে তিনি সতর্কতার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানির সন্ধান ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের বিষয়ে অনুমোদনের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
ব্রিটেনের সরকার ও তার মিত্ররা এর মধ্যে উত্তর সাগরে খনিজসম্পদের সন্ধানের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে ফাতিহ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে এর মাধ্যমে ব্রিটেনের জ্বালানি নিরাপত্তার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না; অথবা তেল ও গ্যাসের মূল্য বদলে যাবে না। এটি সংকটের সমাধানে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য তৈরি করবে না।’
তিনি বলেন, ‘বহু বছর পর্যন্ত এখান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল ও গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে না এবং কোনো মূল্যও কমাবে না। ব্রিটেন আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য আমদানিকারক ও ক্রেতা হিসেবেই রয়ে যাবে। আমি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু বলছি না; শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুসন্ধানে বিনিয়োগের কোনো ব্যবসায়িক যুক্তি নেই।’
সাক্ষাৎকারে এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে এ পরিস্থিতির জলবায়ুর ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, তেল-গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো তুলনামূলক সস্তা কয়লার প্রতি মনোযোগী হতে পারে। তবে সৌর জ্বালানি কয়লার বিপরীতে প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত এটির বিস্তার ঘটবে।
ফাতিহ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। এটির কোনো ধরনের অনুপযোগিতা ও অপকারিতাও নেই।
ইরানে আগ্রাসনের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ সংকট সব ধরনের বৃহৎ সংকটগুলোর সমন্বয়। আমি বুঝতে পারি না বিশ্ব এতটাই অন্ধ যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ৫০ কিলোমিটারের এক প্রণালির মধ্যে আটকে গেছে।’
হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও এর প্রভাব সার, খাদ্য, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন শিল্পের ওপর রয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: ইঙ্কেল