প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহত বা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের লিমাহ উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী একটি ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত স্থান থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর প্রতি নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নৌপথের বাইরে দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজের নিরাপত্তারও কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থান আসে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর এক বিবৃতির পর। বাহরাইনে আয়োজিত একটি নিরাপত্তা সংলাপে অংশ নেওয়া আঞ্চলিক নেতারা হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সেন্টকমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং বিদেশি সেনা প্রত্যাহারই কার্যকর সমাধান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। মেরিনট্র্যাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগের জন্য পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা